উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: অসাবধানতাবশত রাস্তার কাটা ফল, ভাজাভুজি বা রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়া (Meals Poisoning) হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বমি, পেট ব্যথা বা বারবার শৌচাগারে দৌড়ানোর ভয়ে অনেকেই তড়িঘড়ি অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ঘরোয়া কিছু উপকরণের মাধ্যমেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
কেন হয় এই বিষক্রিয়া?
খাদ্যে বিষক্রিয়ার নেপথ্যে প্রধানত কাজ করে সালমোনেল্লা, ই কোলাই বা ক্যাম্পাইলোব্যাক্টরের মতো ব্যাকটিরিয়া। অপরিষ্কার জল, দীর্ঘক্ষণ কেটে রাখা ফল বা কাঁচা মাংসের পাশে রাখা রান্না করা খাবার থেকে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়ায়। এমনকি রাস্তার লস্যি বা শরবত থেকে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণ হয়ে হেপাটাইটিস-বি হওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
সুস্থ হওয়ার সহজ উপায়
শরীর থেকে টক্সিন বের করে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক করতে নীচের পদ্ধতিগুলো বেশ কার্যকর:
জিরে ভেজানো জল: জিরে ভেজানো জল ফুটিয়ে খেলে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ দ্রুত প্রশমিত করে।
রসুন জল: রসুনের অ্যান্টিভাইরাল উপাদান বিষক্রিয়া কাটাতে সিদ্ধহস্ত। কয়েক কোয়া রসুন জলে ফুটিয়ে সেই জল ছেঁকে অল্প অল্প করে পান করুন।
আদা ও মধু: এক কাপ জলে আদা কুচি ফুটিয়ে তাতে মধু মিশিয়ে খেলে বমি ভাব দ্রুত কমে। এর অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার: এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে দু-চামচ ভিনেগার মিশিয়ে খেলে দ্রুত বিষক্রিয়া কেটে যায়।
কলা: পটাশিয়াম সমৃদ্ধ কলা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং পেটের অস্বস্তি কমায়।
অযথা আতঙ্কিত না হয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রচুর পরিমাণে জল পান করা এই সময়ে অত্যন্ত জরুরি। তবে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করবেন না।
