রাজ্যে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে বেনজির পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। দু’দফায় অর্থাৎ আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোট হবে বাংলায়। আর দু’দফাতেই ভোট যাতে রক্তপাতহীন হয়, সেটা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ করেছে কমিশন। এরমধ্যেই ভোটমুখী বাংলায় ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শুধু তাই নয়, ভোট মিটে যাওয়ার পরেও বঙ্গে ৫০০ কোম্পানি বাহিনী থেকে যাবে বলেও মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে। মূলত ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা রুখতেই এহেন পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়েছে।
মন্ত্রক আরও জানাচ্ছে, চলতি মাসের শুরুতেই বাংলায় ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পর্যায়ক্রমে আরও ১৯২০ কোম্পানি মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৩০০ কোম্পানি বাহিনী পৌঁছে যাবে আগামী ৩১ মার্চ। এরপর ধাপে ধাপে ৭, ১০, ১৩ এবং ১৭ এপ্রিল আরও বাহিনী আসবে বাংলায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের শীর্ষ এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ৭, ১০, ১৩ এবং ১৭ এপ্রিল যথাক্রমে ৩০০, ৩০০, ২৭৭ এবং ৭৪৩ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে পৌঁছবে।
আরও পড়ুন:
এদিকে ভোট অবাধ করতে আরও বেশ কয়েকটি নতুন ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজের ক্ষেত্র শুধু ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। বুথ এলাকার অন্য প্রান্তেও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এমনকী ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারকে হুমকি, ভয় দেখানোর মতো অভিযোগ পেলে পুনর্নির্বাচন হতে পারে। ছাপ্পা, অশান্তি, বুথ দখলের মতো ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানাচ্ছে কমিশন।
এখানেই শেষ নয়, জানা গিয়েছে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তথাকথিত ‘ট্রাবল মঙ্গার’দের ডেরা শনাক্ত করে সেই অনুযায়ী রুট মার্চ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কলকাতার রুট ম্যাপ তৈরি করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের হাতে ইতিমধ্যেই তুলে দিয়েছে পুলিশ। লালবাজারের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে পৌঁছেছে কলকাতায়। শহরের বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে রুট মার্চ। এবার রুট মার্চের ক্ষেত্রে শহরের ‘ট্রাবল মঙ্গার’দের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। এই ব্যাপারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে লালবাজারের কর্তাদের। এরপর রাজ্যের অন্য প্রান্তেও একইভাবে রুটমার্চ হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
