মাটিগাড়া: দোকান থেকে চা বিক্রেতা এক মহিলার সোনার গয়না চুরির (Matigara Gold Theft Recovered) অভিযোগ পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো সোনা উদ্ধার করল মাটিগাড়া থানার অ্যান্টি ক্রাইম উইং। এই ঘটনায় দু’জন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের এই দ্রুত তৎপরতায় এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিগাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিমলা ঝা নামে এক মহিলা চায়ের দোকান চালান। গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের মতো দোকানের কাজ শুরু করার আগে তিনি নিজের গলার ও হাতের সোনার গয়নাগুলি খুলে একটি ব্যাগে রেখে দেন। এরপর সারাদিন দোকানে কাজ শেষে রাতে দোকান বন্ধ করার সময় ব্যাগটি নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে ব্যাগ খুলতেই তিনি আঁতকে ওঠেন। তিনি দেখতে পান, ব্যাগের ভেতরে রাখা সমস্ত সোনার গয়না উধাও।
সঙ্গে সঙ্গে তিনি কালক্ষেপ না করে মাটিগাড়া থানায় এসে সমস্ত বিষয়টি জানিয়ে চুরির অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে মাটিগাড়া থানার পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই মহিলার চায়ের দোকানের ঠিক পিছনেই একটি নির্মাণকাজ চলছিল। সেখানে দু’জন যুবক ও দু’জন মহিলা কাজ করছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় সেই চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ।
থানায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রামকুমার বর্মন (২৬) ও সচিন মাঝি (২১) নামে দুই যুবকের নাম উঠে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত রামকুমার বর্মন গোকলাজোত পাথর কলোনির বাসিন্দা। অন্যদিকে সচিন মাঝি গোকলাজোতের কাছে হলদি মিল সংলগ্ন এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকত।
গতকালের ওই ঘটনায় রাত ১২টা ৫ মিনিট নাগাদ সুনির্দিষ্ট এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়। এরপরই মাটিগাড়া থানার অ্যান্টি ক্রাইম উইংয়ের বিশেষ দল মাঠে নামে। মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে, অর্থাৎ রাত আড়াইটে নাগাদ অভিযান চালিয়ে সোনার গয়নাগুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সোনা উদ্ধারের পরেই ওই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চুরির নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং গয়নাগুলি কোথায় হাতবদল হওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা খতিয়ে দেখছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ।

