মাথাভাঙ্গা: রাজনীতির আঙিনায় প্রতিবাদের ভাষা একেক জনের কাছে একেক রকম। মাথাভাঙ্গা শহর (Mathabhanga) মণ্ডলের বিজেপি সাধারণ সম্পাদক শিবশংকর সাহা ওরফে শিবুর কাছে সেই ভাষা ছিল নিজের চুল ও দাড়ি। ২০২২ সাল থেকে দীর্ঘ চার বছর নিজের অবয়বকে প্রতিবাদের দর্পণ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন তিনি। অবশেষে রবিবার সেই ব্রত সাঙ্গ করলেন তিনি।
২০২২ সালের একটি রাতে তৎকালীন শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা শিবশংকরবাবুর বাড়িতে ভয়াবহ হামলা চালায় বলে অভিযোগ। সে সময় তিনি নিজে এবং তাঁর মা দুজনেই অসুস্থ ছিলেন। আতঙ্কে থরথর করে কাঁপা অসুস্থ মায়ের পা ছুঁয়ে সেদিন এক অটল শপথ নিয়েছিলেন শিবু— “যতদিন না রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়বে, ততদিন ক্ষুর-কাঁচি ছোঁয়াব না শরীরে।” সেই প্রতিজ্ঞার চার বছর পর গত ৪ মে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই সেই প্রতীক্ষিত দিনটি ফিরে আসে।
রবিবার সকালে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শিববাড়িতে পৌঁছন শিবশংকর সাহা। সেখানে ক্ষৌরকার ডেকে নিয়ম মেনে মাথা ন্যাড়া করেন এবং দীর্ঘদিনের দাড়ি কেটে ফেলেন। স্নান সেরে মন্দিরে পুজো দেওয়ার সময় চারিদিকে ওঠে “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি। উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের অনেকের চোখেই তখন জল।
চুল-দাড়ি কাটার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শিবশংকর সাহা। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি বলেন, “আমার পরিবার ও দলের কর্মীদের ওপর যারা অন্যায় করেছে, মানুষ আজ তাদের যোগ্য জবাব দিয়েছে। সেই দুঃস্বপ্নের রাত আমি ভুলব না।” তবে প্রতিজ্ঞা পূরণ হলেও তাঁর কণ্ঠে ধরা পড়ে ক্ষোভ। তিনি স্পষ্ট জানান, যাঁরা সেদিন তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল, তাঁদের আইনত দেখে নেওয়ার লড়াই জারি থাকবে।
উপস্থিত বিজেপি নেতা সুবল দাসের কথায়, “শিবশংকর সাহার এই ত্যাগ ও নিষ্ঠা দলের কর্মীদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা। প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও তিনি যেভাবে দলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা পালন করেছেন, তা আমাদের কাছে গর্বের।”
