মাথাভাঙ্গা: পিকনিক মানেই কি শুধু হইচই, হাঁড়ি-পাতিল আর আনন্দের আড্ডা! মাথাভাঙ্গা শহরের সুভাষপল্লিতে রবিবার সেই ধারণাকেই ভেঙে দিলেন গোপাল ভক্তরা। শীতের হালকা আমেজে সুভাষপল্লি দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হল এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান। যার নাম দেওয়া হয়েছে গোপাল ঠাকুরের পিকনিক।
রীতিমতো প্যান্ডেল খাটিয়ে, ফুল-আলোয় সাজিয়ে যেন এক দৈব আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। ভগবানের পিকনিক বলে কথা প্রসাদের মেনুতেও ছিল রাজকীয় ছোঁয়া। নানা রকমের ফল, সাদা অন্ন ও পুষ্পান্ন থেকে শুরু করে বেগুন ভাজা সহ বিভিন্ন ধরনের ভাজা, শাক, দু’প্রকার ডাল, লাবড়া, বাঁধাকপির ঘণ্ট, আলু-কপির ডালনা, চাটনি, পিঠে, পায়েস, লুচিতে প্রসাদের থালা ছিল ভরপুর।
এদিন উদ্যোক্তাদের অন্যতম ভোলানাথ সাহার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ‘বিভিন্ন জায়গায় গোপাল ঠাকুরের পিকনিকের কথা শুনে প্রথমবার সুভাষপল্লিতে এমন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগেই মাইকে প্রচার হওয়ায় রবিবার সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় জমতে থাকে। নিজেদের বাড়ির সিংহাসন থেকে কোলে করে গোপাল ঠাকুরকে নিয়ে ভক্তরা হাজির হন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে।’
এদিন মোট ৭৬টি গোপাল ঠাকুর একত্রিত হন। প্রথমে বিশেষ পুজোর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ভক্তদের জন্য জনপ্রতি ১০০ টাকা মূল্যের কুপনের ব্যবস্থা করা হয়। মোট ৫০০টি কুপন ছাপা হয়েছিল। দুপুরের দিকে ভক্তরা প্রসাদ গ্রহণ করেন। পশ্চিমপাড়া থেকে মেয়ে মেঘাকে সঙ্গে নিয়ে আসা রঞ্জিতা সাহা বললেন, ‘নিজেরা পিকনিকে যাই। কিন্তু ভগবানকে সঙ্গে নিয়ে পিকনিকে অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন।’ এদিন পিকনিকে এসেছিলেন স্থানীয় শিক্ষক শম্ভু সাহা। তাঁর বক্তব্য, ‘সপরিবারে এমন অভিনব পিকনিকে অংশ নিয়ে আলাদা আনন্দ পেয়েছি।’ হাসপাতালপাড়ার মিহির দাসের কথাতেও ধরা পড়ে একই উচ্ছ্বাস।
ভক্তি, আনন্দ আর সামাজিক মিলনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল সুভাষপল্লির গোপাল ঠাকুরের পিকনিক—যেখানে পিকনিকের ছুটি পেলেন স্বয়ং ভগবানও।
