হলদিবাড়ি: বছর ঘুরতেই বাংলায় বিধানসভা ভোট। ইতিমধ্যে শাসক-বিরোধী সব দলই তাঁদের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এই আবহে মেখলিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। বিগত বিধানসভা ভোটের পর দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর রাজনীতিতে ফের সক্রিয় প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধান। গতবছর থেকে বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন অর্ঘ্য। সংগঠন বৃদ্ধিতে বর্তমানে পুরো মেখলিগঞ্জ বিধানসভা এলাকা চষে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। আর এতেই বসে থাকা ও অভিমানী দলীয় কর্মীরা বাড়তি অক্সিজেন পাচ্ছেন। প্রাক্তন বিধায়কের হাত ধরে বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করছেন তাঁরা।
দলীয় নেতৃত্বের একাংশের দাবি, কয়েক বছর আগেও দুই বারের তৃণমূলের বিধায়ক অর্ঘ্যকে দলীয় কর্মসূচিতে বিশেষ দেখা যেত না। তাঁর পিতা অমর রায়প্রধান ছিলেন সাতবারের এমপি। অর্ঘ্য বরাবর মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত স্নেহধন্য ছিলেন। একইভাবে মেখলিগঞ্জ বিধানসভায় আজও তাঁর সমান গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
রাজ্যে এসআইআর শুরু হতেই অধিক তৎপর হয়ে উঠেছেন অর্ঘ্য। দলীয় কর্মসূচির বাইরে নিজের উদ্যোগে অনুগামীদের নিয়ে এসআইআর-এর বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেন। তিস্তা পেরিয়ে মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। মোড়ে মোড়ে, বাজারে, কোথাও বা খুলি বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাতে শামিল হন জনপ্রতিনিধি সহ স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বের একাংশ। একইভাবে রাসমেলা মাঠে অনুষ্ঠিত মুখ্যমন্ত্রীর জনসভা সফল করার জন্যও পৃথকভাবে প্রচার চালিয়েছিলেন অর্ঘ্য।
বিধানসভা ভোটের আগে পুনরায় রাজনীতিতে অর্ঘ্যর এমন সক্রিয়তা নিয়ে ইতিমধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। তবে বিধানসভা ভোটে টিকিট এবার অর্ঘ্যের ঝুলিতে? সংকেত মেলায় কি তিনি এমন তৎপর হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর জনসভায় অর্ঘ্যের উপস্থিতি ও মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম, সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর সাফ কথা, ‘দলের অনুগত সৈনিক আমি। দল আমাকে যা দায়িত্ব দেবে, তা মাথা পেতে নেব।’
তৃণমূল কিষান ও খেতমজদুরের হলদিবাড়ি ব্লক সভাপতি সামসের আলির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ‘অর্ঘ্যের অসীম সাংগঠনিক ক্ষমতা রয়েছে। তারই প্রতিফলন ছিল বিগত পঞ্চায়েত ভোট ও বিধানসভা ভোট। বিধানসভা ভোটে প্রথম হলদিবাড়ি ব্লকে তৃণমূল লিড দিয়েছিল। অথচ বিগত বিধানসভায় তাঁকে বঞ্চিত করা হয়।’ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের হলদিবাড়ি টাউন কমিটির সভাপতি মাসুক সরকারের দাবি, ‘মেখলিগঞ্জ বিধানসভায় টিকিট পাওয়ার মতো অর্ঘ্য ছাড়া দ্বিতীয় কোনও মুখ নেই। অর্ঘ্য থাকলে পুরসভার বোর্ড গঠন নিয়ে এমন নাটক হত না। দলীয় নির্দেশ অমান্য করার কেউ সাহস দেখাত না।’ তৃণমূলের জয় হিন্দ বাহিনীর হলদিবাড়ি ব্লক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বললেন, ‘মেখলিগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের মাটি পুনরুদ্ধারের জন্য অর্ঘ্যের মতো নেতাকে বিধায়ক হিসেবে প্রয়োজন।’ তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য মিনু খাতুন জানালেন, সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এলাকায় বিজেপির বাড়বাড়ন্ত।
গত পঞ্চায়েত ভোটে হলদিবাড়ি ব্লকের ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত ত্রিশঙ্কু হয়েছিল। লোকসভা ভোটেও আশানুরূপ ফল হয়নি। অর্ঘ্যের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বর্তমান বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারীকে ফোন করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
