উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট। লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজের বাড়িতে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হলিউডের (Hollywood) গ্ল্যামার আইকন মেরিলিন মনরো (Marilyn Monroe)। বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে, পাশে ছিল খালি ওষুধের শিশি। সেই সময় তদন্তের পর পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবনের ফলে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। কিন্তু কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও সেই রহস্য আজও যেন অমীমাংসিত। এত সবকিছুর মাঝে, আজ ১ জুন হলিউডের এই ‘মায়াবী সুন্দরীর’ জন্মের ১০০ বছর পূর্ন হল।
সাম্প্রতিক অতীতে ‘দ্য লাস্ট ডেইজ অফ মেরিলিন মনরো’ বইটির লেখক জেমস প্যাটারসন (James Patterson) এই লাস্যময়ী অভিনেত্রীর মৃত্যু নিয়ে জল্পনার আগুন উস্কে দিয়েছিলেন। এক সাক্ষাৎকারে জেমস প্যাটারসন সরাসরি দাবি করেন যে, মেরিলিন মনরো আত্মহত্যা করেননি, বরং তাঁকে সম্ভবত হত্যা করা হয়েছিল। প্যাটারসনের মতে, মেরিলিন এমন কিছু শক্তিশালী মানুষের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং এমন সব গোপন তথ্যের অধিকারী ছিলেন, যা অনেকের কাছেই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। প্যাটারসন বলেন, “প্রেসিডেন্ট কেনেডি, রবার্ট কেনেডি, ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রা এবং মাফিয়া জগতের মানুষদের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তিনি অনেক গোপন তথ্য জানতেন, যা তাঁকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়।”
প্যাটারসনের গবেষণায় উঠে এসেছে মেরিলিনের জীবনের অন্ধকার দিকগুলোও— ছোটবেলায় অনাথ আশ্রমে থাকা, মানসিক আঘাত এবং ভয়াবহ তোতলামির সমস্যার কথা। এমনকি তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মৃত্যুর রাতে ঘটনাস্থলটিকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ সাজানো হয়েছিল, যাতে তা আত্মহত্যা বলে মনে হয়।
মেরিলিন মনরোর জীবন নিয়ে লেখা জয়েস ক্যারল ওটসের উপন্যাস ‘ব্লন্ড’-ও মৃত্যুর রহস্য নিয়ে নানা সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। যদিও ওটস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর বইটি কোনো জীবনী নয়, বরং একটি কাল্পনিক আখ্যান। বইটিতে তিনি দেখিয়েছেন, মেরিলিন ওষুধের ওভারডোজ নেওয়ার পর একজন অপরিচিত ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে তাঁকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করে এবং পরে অকাট্য সব তথ্যপ্রমাণ সরিয়ে ফেলে।
ওটসের মতে, মেরিলিনের জীবন ছিল প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণা ও খ্যাতির চাপের সংমিশ্রণ। তিনি মনে করেন, বিখ্যাত হওয়ার বিড়ম্বনা এবং ব্যক্তিগত জীবনের একাকীত্বই তাঁকে এক চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছিল। ওটসের উপন্যাসে কাল্পনিক মৃত্যুর দৃশ্যটি আসলে সেই সব অমীমাংসিত প্রশ্নেরই প্রতিফলন, যা আজও ইতিহাসবিদ এবং ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগায়।
মেরিলিনের মৃত্যুর রাতে ফোন রেকর্ড উধাও হয়ে যাওয়া কিংবা ঘর থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো আজও রহস্য বাড়িয়ে দেয়। যদিও সরকারিভাবে মামলাটি বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে, তবে প্যাটারসন বা ওটসের মতো লেখকদের পর্যবেক্ষণ প্রমাণ করে যে, হলিউডের এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর প্রস্থান আজও রহস্যের মোড়কে বন্দী।
