Maoist Give up | বস্তারের ৩ জেলায় আত্মসমর্পণ ৭৮ মাওবাদীর! অর্ধেকের বেশিই মহিলা, জমা প্রচুর অস্ত্র

Maoist Give up | বস্তারের ৩ জেলায় আত্মসমর্পণ ৭৮ মাওবাদীর! অর্ধেকের বেশিই মহিলা, জমা প্রচুর অস্ত্র

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নিজেদের একদা গড়েই আরও দুর্বল হয়ে পড়ল মাওবাদীরা। ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের ৩ জেলায় বুধবার কমপক্ষে ৭৮ জন মাওবাদি ক্যাডার আত্মসমর্পণ করেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ৪৩ জনই মহিলা ক্যাডার।

মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলি জেলায় সিনিয়র মাওবাদী নেতা মাল্লুজুলা ভেনুগোপাল রাও ওরফে ভূপতি এবং আরও ৬০ জন ক্যাডারের গণ আত্মসমর্পণের পর এই আত্মসমর্পণের ঘটনাটি ঘটে। বেণুগোপাল রাওয়ের মতো শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ মাওবাদীদের আত্মবিশ্বাস কার্যত ভেঙে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন যে, সুকমা জেলায় দশজন মহিলা সহ প্রায় ২৭ জন মাওবাদী তাদের অস্ত্র সমর্পণ করেছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জনের নামে একসঙ্গে ৫০ লক্ষ টাকার পুরস্কার ছিল। সুকমায় আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আছেন পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি (পিএলজিএ) ব্যাটালিয়ন নং ১-এর সদস্য ওয়াম লক্ষ্মু (৫৩), যার উপরে পুরস্কারের পরিমাণ ছিল ১০ লক্ষ টাকা। আরও তিনজন – পিএলজিএ ব্যাটালিয়ন নং ১-এর একটি মিলিটারি প্লাটুনের সদস্য মাধবী ভীমা (১৮), এবং সুনীতা ওরফে কাওয়াসি সোমদি (২৪) এবং সোদি মাসে (২২), উভয়ই ২ নম্বর রিজিওনাল মিলিটারি কোম্পানির সদস্য ছিল। এদের প্রত্যেকের জন্য ৮ লক্ষ টাকা পুরস্কার ছিল। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে একজনের জন্য ৩ লক্ষ টাকা, অন্য দুজন ছিলেন যাদের পুরস্কারের পরিমাণ ছিল ২ লক্ষ টাকা এবং আরও নয়জন ছিলেন যাদের প্রত্যেকের জন্য ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার মূল্য ধার্য্য ছিল।

সুকমা জেলার পুলিশ সুপার কিরণ চহ্বান বলেন, ‘সুকমায়, মাওবাদীরা ঊর্ধ্বতন পুলিশ এবং সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) কর্মকর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে, কারণ তারা অন্তঃসারশূন্য মাওবাদী মতাদর্শ, নিরীহ আদিবাসীদের উপর নকশালদের দ্বারা সংঘটিত নৃশংসতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিতে হতাশ হয়ে পড়ছিল।” সুকমার প্রতিটি আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে এবং সরকারের নিয়ম মেনে তাদের পুনর্বাসন দেওয়া হবে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

এছাড়া কাঙ্কের জেলার সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) ক্যাম্পে দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির দুই সদস্য এবং ৩২ জন মহিলা ক্যাডার সহ প্রায় ৫০ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটির সদস্য রাজমান মান্ডভি এবং রাজু সালামের নেতৃত্বে মাওবাদী ক্যাডারদের একটি দল আত্মসমর্পণের জন্য কাঙ্কেরের কোয়লাইবেদা পুলিশ স্টেশনের অধীনে বিএসএফের ৪০ তম ব্যাটালিয়নের কামতেরা ক্যাম্পে পৌঁছে যায়। সূত্রের খবর, সাতটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি সেল্ফ-লোডিং রাইফেল, চারটি ইনসাস রাইফেল, একটি ইনসাস লাইট মেশিনগান (LMG) এবং একটি স্টেনগান সহ ৩৯টি অস্ত্র জমা করা হয়েছে।  আত্মসমর্পণকারী ক্যাডারদের মধ্যে পাঁচজন ডিভিশনাল কমিটির সদস্য – প্রসাদ তাদামি, হীরালাল কোমরা, জুগনু কাওয়াচি, নরসিংহ নেতাম এবং নন্দে (রাজমান মান্ডাভির স্ত্রী) – এবং ২১ জন এরিয়া কমিটির সদস্য এবং ২১ জন পার্টি সদস্য রয়েছেন। কোন্ডাগাঁওয়ে, গীতা ওরফে কমলি সালাম নামে একজন মহিলা ক্যাডার, যিনি পূর্ব বস্তার ডিভিশনের অধীনে দর্জি দলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তিনিও আত্মসমর্পণ করেন। তার জন্য ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ছিল। এসপি কিরণ চহ্বান বলেন, ‘আত্মসমর্পণকারী ক্যাডাররা রাজ্য সরকারের নিয়াদ নেল্লানার (আপনার ভালো গ্রাম) প্রকল্প এবং নতুন আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়। এই বিপুল আত্মসমর্পণের খবরের প্রতিক্রিয়ায়, এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে ‘মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণুদেও সাই বলেছেন ‘মাওবাদ, যা একসময় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল, এখন প্রতিটি ফ্রন্টে ভেঙে পড়ছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *