উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দর কষাকষি চলছে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে (India-US)। কিন্তু এখনও এনিয়ে কিছু চূড়ান্ত হয়নি। এরই মাঝে বুধবার ভোরে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দু’জনের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে বলেই জানিয়েছেন ট্রাম্প। আর এরপরই এল এক বড় খবর। শোনা যাচ্ছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি (Commerce settlement) চূড়ান্ত করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে ভারত এবং আমেরিকা। আর এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারতের উপর শুল্কহার ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ হতে পারে। এমনটাই দাবি করা হয়েছে সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত জ্বালানি ও কৃষি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। আর এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ কমাতে পারে। যা রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহের উপর বিশ্বব্যাপী নির্ভরতা সীমিত করার জন্য ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উভয় পক্ষই চলতি মাসের শেষের দিকে আয়োজিত আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের আগে চুক্তিটি সম্পন্ন হতে পারে। এমনকি সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রক বা হোয়াইট হাউসের তরফে এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি এখনও।
তবে মনে করা হচ্ছে, চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত কিছু মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানির অনুমতি দিতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের কৃষি বাজারে প্রবেশাধিকার সম্পর্কে দীর্ঘদিনের মার্কিন উদ্বেগ দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত শুল্ক এবং বাজারে প্রবেশাধিকার পর্যালোচনার জন্য একটি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে এই চুক্তিতে। যাতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য শর্তাবলী বজায় থাকে।
উল্লেখ্য, প্রথম দফায় ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। এরপর রাশিয়ার থেকে তেল কেনার অব্যাহত রাখার জরিমানা হিসেবে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। ফলে ভারতের উপর মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে আটকে ছিল বাণিজ্য চুক্তিও। তবে এবার এই চুক্তি কার্যকর হলে ২০২০ সালের পর প্রথমবার বড় অগ্রগতি হবে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে। যা সেবার শুল্ক সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।
