নাগরাকাটা: বন, পরিবেশ এবং পর্যটন—এই তিন ক্ষেত্রকে সমন্বিত করে একটি সুসংহত নীতিমালা তৈরির মাধ্যমে রাজ্যের অরণ্য সম্পদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করলেন রাজ্যের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বনমন্ত্রী (Forest Minister) তথা উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র মনোজ ওরাওঁ (Manoj Oraon)। সোমবার চাপরামারির বন বাংলোয় বন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর মন্ত্রী এই পরিকল্পনার কথা জানান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বন ও বন্যপ্রাণ (Wildlife) সংরক্ষণে তাদের সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি দাবি করেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অফিসে বসে থেকে কিছু বোঝা যায় না। সেজন্য নীচুতলায় নেমে কাজ শুরু করেছি। প্রতিটি স্থানে গিয়ে আধিকারিকদের মূল্যবান মতামত নিচ্ছি। বন, পরিবেশ ও পর্যটনকে একসূত্রে গেঁথে কাজ হবে। যে সমস্ত বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হবে তার জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা প্রার্থনা করা হবে। অন্য প্রকল্পগুলি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে পদক্ষেপ করা হবে।”
বন দপ্তরের কর্মী সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এজন্য কোথায় কত সংখ্যক কর্মী ঘাটতি রয়েছে, সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যে ওই ঘাটতি কোথাও ৮০ এমনকি কোথাও ৯০ শতাংশও বলেও জানা গিয়েছে। তাঁর মতে, বনকে নিয়ে আগে কারও কোনও চিন্তা্ ভাবনাই ছিল না। এর ফল আজকের এই পরিস্থিতি। বহু বছর ধরে নিয়োগ নেই। যারা ছিলেন তাঁদেরও অনেকে অবসর নিয়েছেন। এছাড়াও দপ্তরের বিভিন্ন রেঞ্জে গাড়ির অপ্রতুলতা, গাড়ি থাকলেও জ্বালানী সংকট, সমস্ত কিছুই তাঁর গোচরে এসেছে বলে এদিন জানান তিনি।
বনমন্ত্রী বলে্ন, “আমি নিজে ডুয়ার্সের মানুষ। বন ও বন্যপ্রাণের বিষয়টি খুব ভালই জানা আছে। আগামীতে যা হবে ভাল হবে। ক্রমশ সংকুচিত করে ফেলা বনভূমির আয়তন বাড়ানো হবে। মানুষ-বন্যপ্রাণের সংঘাত উত্তরবঙ্গ সহ দক্ষিণবঙ্গেরও বড় সমস্যা। বিশেষ করে মানুষ-হাতি ও মানুষ-চিতাবাঘ। বিশেষ স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ আধিকারিকরা মতামত দিচ্ছেন। ধাপে ধাপে হবে। দুম করে কোনও কিছু বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।”
আগের সরকারের আমলে জঙ্গলে ঢোকার এন্ট্রি ফি মকুব করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে পুনর্বিবেচনা করার ইঙ্গিতও এদিন বনমন্ত্রী দিয়ে্ছেন। এর ফলে বনদপ্তরের পাশাপাশি যৌথ বন পরিচালন সমিতিগুলিরও রাজস্বের ওপর আঘাত নেমে এসেছে তিনি জানান। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পূর্বতন সরকার ওই হঠকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর জঙ্গলে জিপসি সাফারির অন লাইন বুকিং সিস্টেম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পর্যটনের ওপর কুপ্রভাব পড়েছে।” গরুমারায় কুনকি হাতির সংখ্যা কমে যাওয়ায় হাতি সাফারির ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিনের এই বৈঠকে বন দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গের অতিরিক্ত প্রধান মুখ্য বনপাল ডঃ অনুপমা, বন্যপ্রাণ শাখার উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ডঃ ভাস্কর জেভি, গরুমারা বন্যপ্রাণ ডিভিশনের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন, বৈকুন্ঠপুর ডিভিশনের ডিএফও মুদিত কুমার, গরুমারা এডিএফও রাজীব দে, জলপাইগুড়ি ডিভিশনের ডিএফও অরিজিত বসু ও জয়ন্ত কুমার মন্ডল, বৈকুন্ঠপুরের এডিএফও রাজীব লামা সহ বিভিন্ন রেঞ্জের রেঞ্জাররা। এছাড়াও ছিলেন জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায়, মালবাজার ও নাগরাকাটার দুই বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা ও পুনা ভেংরা সহ আরও অনেকে।
