উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ বিলাসবহুল জীবনের চাকচিক্য ছেড়ে এখন ঠিকানা উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগার। লখনউয়ের এক ক্যাফে মালিক শিবা শর্মা হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মডেল শ্রদ্ধা দুবে (Shraddha Dubey), তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিল বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। গত ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে এই তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ১০ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনজনকে নিভৃতবাসে রাখার পর কারাগারের কুঠুরিতে স্থানান্তর করা হয়। মডেল শ্রদ্ধা ও তাঁর বোন রশ্মিকে রাখা হয়েছে ৪৫ জন মহিলা বন্দির একটি ওয়ার্ডে। বিলাসবহুল জীবন থেকে একলাফে জেলের রুটিনে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও শ্রদ্ধার চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগের ছাপ ধরা পড়েছে।
প্রথম রাতে জেলে বন্দিদের জন্য বরাদ্দ রুটি, ডাল, আলু-সোয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হলেও মানসিক উদ্বেগের কারণে তা ছুঁয়েও দেখেননি শ্রদ্ধা। গভীর রাতে শুতে গেলেও দুই চোখের পাতা এক করতে পারেননি তাঁরা। পরদিন সকাল ৬টায় জেলের কড়া নিয়মে ঘুম ভাঙার পর থেকেই দুই বোন সম্পূর্ণ চুপচাপ রয়েছেন। জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা না বললেও মাঝে মধ্যে নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলছেন তাঁরা। জেলর ঋত্বিক প্রিয়দর্শী জানিয়েছেন, দুই বোনের ওপর সর্বক্ষণ বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে এবং বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। এখনও পর্যন্ত পরিবারের কোনো সদস্য বা আত্মীয় তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।
গত ৯ অক্টোবর লখনউয়ের একটি আবাসনের চারতলা থেকে রহস্যজনকভাবে পড়ে মৃত্যু হয় ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার। মৃত শিবার লিভ-ইন সঙ্গী ছিলেন মডেল শ্রদ্ধা দুবে। শিবার পরিবার শ্রদ্ধার বিরুদ্ধে তাঁকে খুনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুললেও, শ্রদ্ধা দাবি করেছেন শিবা আত্মহত্যা করেছেন।
গ্রেফতারির ভয়ে লখনউ ছেড়ে পালানোর পর কানপুর, নাগপুর এমনকি নেপালেও শ্রদ্ধাদের লুকিয়ে থাকার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিল শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখ ও তার সহযোগীরা। সম্প্রতি নেপালে তাঁদের খোঁজ মিলতেই তাঁরা ভারতে ফিরে আসেন এবং নাগপুরে লুকিয়ে থাকার সময় পুলিশের জালে ধরা পড়েন। বর্তমানে আমির শেখকে জেরা করে এই হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত ছিল, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

