আজাদ, মানিকচক: মানিকচকে (Manikchak) হিমঘর নির্মাণের দাবিতে এবার সরব চাষিরা। মানিকচকের এনায়েতপুর কৃষি সমবায় সমিতি নিজস্ব উদ্যোগে একটি ছোট আকারের হিমঘর নির্মাণ করলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তা ১২ বছর ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তা পুনরায় চালু করার বিষয়েও সরকারিভাবে কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। তাই অগত্যা বাধ্য হয়ে দূরে সামসী বা গাজোলের হিমঘরে যেতে হয় মানিকচকের চাষিদের। ফলে লোকসানের মুখে পড়ছেন এই এলাকার চাষিরা। তাই চাষিদের দাবি, নুরপুর অথবা মানিকচকের কোনও এলাকায় সরকারি উদ্যোগে হিমঘর এবং দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এনায়েতপুর কৃষি সমবায় সমিতির হিমঘর পুনরায় চালু করা। অতি দ্রুত মানিকচকে হিমঘর নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র।
মালদা জেলার সবচেয়ে বেশি সবজি রপ্তানি হয় মানিকচকের নুরপুর থেকে। প্রায় হাজার একরের বেশি জায়গাজুড়ে সবজি চাষ হয় এখানে। মালদা জেলা তো বটেই, এই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত সহ প্রতিবেশী রাজ্য বিহার ও ঝাড়খণ্ডে এই এলাকা থেকেই সবজি রপ্তানি করা হয়। সবজি চাষের উপরেই নির্ভরশীল এই এলাকার ১০০০-এরও বেশি চাষি পরিবার। বর্তমানে ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলু সহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে ভরপুর গোটা এলাকা। অন্য বছরের চেয়ে এই বছর ভালো ফলন হয়েছে নুরপুরজুড়ে। তারপরও লোকসানের আশঙ্কায় এই এলাকার চাষিরা। এই এলাকায় একটি হিমঘর নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের, এই দাবিকে সামনে রেখে স্মারকলিপি ও লিখিত আকারেও জানিয়েছেন নুরপুর সহ মানিকচকের চাষিরা। এমনকি নুরপুর ব্যারেজ সংলগ্ন একটি সরকারি জমিও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেই জমিতেই হিমঘর নির্মাণের আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু সরকারের তরফে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ চাষিদের।
এই বিষয়ে নুরপুরের চাষি মহম্মদ খুরশেদ মিয়াঁ, খালেক মিয়াঁরা বলেন, বিপুল পরিমাণ সবজি ও আলু চাষ হয়। মজুত রাখার কোনও জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক সময় কম দামে বিক্রি করতে হয় আমাদের। রাজ্যে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গার পর মালদহের নুরপুরে সবজিপাড়ায় এত পরিমাণ সবজি চাষ হয়। কিন্তু আমরা হিমঘরের আবেদন জানিয়ে এলেও কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হিমঘর হলে প্রচুর পরিমাণ মুনাফা লাভের আশা থাকবে আমাদের, তাই আমরা প্রশাসনের কাছে হিমঘর করার আবেদন জানাচ্ছি।
মানিকচকে হিমঘর নির্মাণের বিষয়ে মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্রের আশ্বাস, ‘সত্যিই মানিকচকে হিমঘর নির্মাণ খুব প্রয়োজন। চাষিদের আবেদন মোতাবেক ইতিমধ্যেই সরকারি উদ্যোগে হিমঘর নির্মাণের জন্য প্রশাসনিকভাবে জায়গার সন্ধান চলছে।’
