মানিকচক: রামনবমীর পুণ্যতিথিতে ভক্তি নয়, বরং চরম বিশৃঙ্খলা আর রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী থাকল মালদার (Malda) মানিকচক (Manikchak)। শোভাযাত্রায় অস্ত্র প্রদর্শন থেকে শুরু করে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টার ছেঁড়া এবং দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অবমাননা করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্লক জুড়ে বইছে উত্তেজনার পারদ।
অভিযোগ উঠেছে, মানিকচক ব্লক তৃণমূল কার্যালয়ের ঠিক সামনেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সংবলিত একটি বিশাল রোড ক্রসিং গেট ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা। লাঠি ও তলোয়ার উঁচিয়ে পোস্টার ছেঁড়ার সময় মিছিলে মোদী ও বিজেপির সমর্থনে স্লোগান দেওয়া হয়। শাসকদলের দাবি, মানিকচক বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী গৌড়চন্দ্র মন্ডলের উপস্থিতিতে ও তাঁর নির্দেশেই এই নক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।
তৃণমূলের অভিযোগ অনুযায়ী, বিশৃঙ্খলা শুধু পোস্টার ছেঁড়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মিছিলটি মানিকচক বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে সেখানে অবস্থিত দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিশাল প্রতিকৃতির হাতে জোরপূর্বক ধর্মীয় ঝাণ্ডা গুঁজে দেওয়া হয়। এমনকি নেতাজির জুতোতেও পতাকা গোঁজার অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে ধর্মীয় ঝাণ্ডা সরিয়ে সেখানে জাতীয় পতাকা দেওয়া হলেও, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই তলোয়ার উঁচিয়ে পোস্টার ছেঁড়া এবং নেতাজির মূর্তিতে ঝাণ্ডা গোঁজার বেশ কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে(ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ)।
ঘটনা প্রসঙ্গে মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি আশীষ সিনহা বলেন: বিজেপি প্রার্থী গৌড়চন্দ্র মন্ডল ও বিজেপি নেতৃত্বের নির্দেশেই মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টার ছেড়া হয়েছে। পোস্টার ছেড়ার ভিডিও আমরা সংগ্রহ করেছি। আমরা দলীয়ভাবে এই ঘটনার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করব।
পাল্টা যুক্তিতে বিজেপি প্রার্থী গৌড়চন্দ্র মন্ডল এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, মমতা ব্যানার্জি এখন মুখ্যমন্ত্রী নন। তিনি সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির পোস্টার ছেড়াতে তেমন কোন দোষ দেখতে পাচ্ছেন না বিজেপি প্রার্থী গৌড় চন্দ্র মন্ডল।
