Manik Sarkar | ‘আস্থা হারাচ্ছে বিজেপি’, উপলব্ধি মানিকের, পাহাড়ে ষষ্ঠ তফশিলের সওয়াল

ব্লগ/BLOG
Spread the love


সানি সরকার, শিলিগুড়ি: বিধানচন্দ্র রায় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গে একাধিক নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের মতো কোনও সরকার বাংলায় এত দ্রুত জনপ্রিয়তা হারায়নি—উপলব্ধি ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের (Manik Sarkar)। এমন পরিস্থিতির পিছনে বিজেপির গণতন্ত্র বিরোধী মানসিকতা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির গণতন্ত্রবিরোধী নীতির জন্য এ রাজ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাবের বিস্তার ঘটছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার ক্ষোভকে আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপি একবার ক্ষমতায় এলে আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোট করতে চায় না। কিন্তু চাপ সৃষ্টি করে ভোট আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে আদালতে যেতে হবে। যেমনটা আমরা করেছি ত্রিপুরায়। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ায় আদালতের নির্দেশে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরায় ভিলেজ কমিটির ভোট হচ্ছে।’

বঙ্গ রাজনীতি এখন তপ্ত নানা মোড়কের নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচন নিয়ে। দুটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটকে কেন্দ্র করে প্রতীক থেকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার, গত কয়েকদিন ধরে নানা নাটক সামনে আসছে। এমন পরিস্থিতির জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। তবে সরাসরি বাংলার উপনির্বাচন প্রসঙ্গ উত্থাপন না করলেও, বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট-ভয়’-এর অভিযোগ তুলেছেন ত্রিপুরার দুই দশকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের লেখা ‘ভারতীয় সংবিধানে স্বশাসন এবং ষষ্ঠ তফসিল’-এর উন্মোচন করতে শনিবার শিলিগুড়িতে এসেছিলেন মানিক। রামকিঙ্কর প্রদর্শনী কক্ষে ‘চণ্ডাল বুকস’ প্রকাশিত বইটির উন্মোচনের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে নন্দীগ্রাম বা রেজিনগর প্রসঙ্গ সরাসরি উত্থাপন না করে মানিক বলেন, ‘বিজেপি যাঁকে পছন্দ করবে না, তাঁকে নির্বাচনে দাঁড়াতে দেবে না। নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে বিজেপি। কিন্তু মানুষকে আটকে রাখা যায় না। গণতন্ত্রকে হত্যা করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চিরদিন কায়েম করা যায় না।’ এমন শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কথা জানান তিনি।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জনজাতি এবং তাঁদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ষষ্ঠ তফশিলের ভূমিকা কতটা, নিজের লেখায় তুলে ধরেছেন শিলিগুড়ির প্রাক্তন মেয়র অশোক। যথারীতি তিনি বইটিতে দার্জিলিং প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন। পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ তফশিল কার্যকর ভূমিকা নিতে পারত বা পারে বলে মনে করেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক। তিনি বলেন, ‘ষষ্ঠ তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত দার্জিলিংকে। তবে লড়াই না করলে সংবিধানের এই স্বীকৃতি পাওয়া যাবে— এই ভাবনা ভুল। রাজ্য সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে হবে।’ রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার যে ষষ্ঠ তফশিলে সায় দেবে না, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি গুজরাট প্রসঙ্গ টেনে আনেন। বলেন, ‘গুজরাটে এক কোটি উপজাতি জনজাতি রয়েছে। কিন্তু সেখানে তফশিল মোতাবেক কোনও জেলা পরিষদ নেই। বিজেপি মুখে উপজাতিদের উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে তা করে না।’ তাঁদের জমানায় ত্রিপুরায় বিভিন্ন জনজাতির কীভাবে উন্নয়ন ঘটেছে, সেই খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।

নিজের লেখা বইটির প্রয়োজনীয়তা কোথায়, তার ব্যাখ্যা দেন অশোক। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কার্সিয়াংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক রোহিত শর্মা ছাড়াও অজয় এডওয়ার্ড, বাইচুং ভুটিয়া প্রমুখ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *