প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান : মাতৃপক্ষে মায়ের হাতেই নৃশংস ভাবে খুন হলো সাড়ে তিন মাসের শিশু পুত্র (toddler homicide)। মৃতের নাম অঙ্কিত ঘোষ। শারদোৎসবের আনন্দের আবহে শিশু হত্যার এমন মর্মান্তিক ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) মঙ্গলকোটে (Mangalkot)। শিশুটির মা মামনি দাসের বিরুদ্ধে ঘুমন্ত শিশুকে বিছানা থেকে তুলে নিয়ে পুকুরের জলে ফেলে দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ এনে মঙ্গলকোট থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন শিশুটির দাদু অভিজিৎ ঘোষ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামনি দাসকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। রবিবার ভোরে পুকুর থেকে অঙ্কিত ঘোষ নামে ওই শিশুর দেহ উদ্ধার করে মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মামনির বাপের বাড়ি মালদহে। বছর দুয়েক আগে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামের বাসিন্দা অঞ্জন ঘোষের। অঞ্জন মূক ও বধির। সাড়ে তিন মাস আগে তাঁদের পুত্রসন্তান অঙ্কিতের জন্ম হয়। শিশুটির দাদুর দাবি,
শনিবার শিশু সন্তানটিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কুরুম্বা গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিল বৌমা। রাতে সে শাশুড়ির সঙ্গে একই ঘরে শিশুটিকে নিয়ে ঘুমোতে যায়। পরে রাত প্রায় ১২টা নাগাদ শাশুড়িকে ঘুম থেকে তুলে মামনি জানান ছেলে বিছানায় নেই। এমনটা শোনার পরেই আত্মীয় বাড়ির সদস্যরা শিশুটির খোঁজ শুরু করেন। বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজির পর মামনিই পাশের পুকুরে খোঁজার কথা বলেন। রবিবার সকাল ওই পুকুরেই শিশুটির মৃতদেহ দেখতে পাওয়া যায়।
এতেই পরিবারের সকলের মামনির উপর সন্দেহ হয়। তাঁরা মামনিকে চেপে ধরেন। শিশুটির দাদু অভিজিৎ ঘোষের দাবি,“পরিবারের সকলের জেরার মুখে পড়ে বৌমা সত্য স্বীকার করে নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মঙ্গলকোট থানার পুলিশ। পুকুর থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য এদিনই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির দাদু অভিজিৎ ঘোষ এদিন আরও জানান, এর আগেও মামনি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে বাপের বাড়িতে তাঁর গর্ভপাত করানো হয়েছিল বলে তাঁরা জানতে পারেন। সেই কারণে এবার ক্ষীরগ্রামে রেখেই তাঁর সন্তান প্রসব করানো হয়েছিল। অভিজিৎবাবুর কথায়, ‘জানতাম না, মা হয়েও নিজের দুধের শিশুকে কেউ এ ভাবে খুন করতে পারে।” এদিকে সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা অঞ্জন ঘোষ-সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

