উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর যখন আই-প্যাক এবং অভিষেকের কর্পোরেট স্টাইল নিয়ে দলের ভেতরেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই এক কড়া বার্তায় দলের রাশ নিজের হাতে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ৮০ জন জয়ী প্রার্থীর সকলকেই উঠে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন তিনি (Mamata Banerjee directions to respect Abhishek)।
অভিষেকের জন্মের আগে থেকে রাজনীতি করা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বা সমর মুখোপাধ্যায়দের মতো প্রবীণ নেতাদেরও নেত্রীর নির্দেশে উঠে দাঁড়াতে হয়। যা নিয়ে উপস্থিত অনেক বিধায়কই একান্ত আলোচনায় অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
অভিষেকের সমালোচনা বন্ধ করতে চার সদস্যের একটি কড়া শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি গড়ে দিয়েছেন মমতা। ডেরেক ও’ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং অসীমা পাত্রকে নিয়ে গঠিত এই কমিটি দলের অনুশাসন রক্ষা করবে। ডেরেককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে নজরদারি চালানোর।
বৈঠকে ১১ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন, যাঁদের মধ্যে বীরভূমের কাজল শেখ এবং পিরজাদা কাশেম সিদ্দিকি উল্লেখযোগ্য। অন্যদিকে, কারচুপির তত্ত্ব নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছে— কারচুপি হলে এই ৮০ জন জিতলেন কীভাবে?
গণনায় কারচুপির অভিযোগে সরব হয়ে মমতা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে তিনি আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হবেন। বিধানসভার প্রথম দিন কারচুপির প্রতিবাদে সকল তৃণমূল বিধায়ককে কালো পোশাক পরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পরাজয়ের ধাক্কা সামলে যখন নতুন সরকার গঠনের তোড়জোড় চলছে, তখন ইস্তফা না দিয়ে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ পদে অনড় থাকা এবং দলের ভেতরে অভিষেক-কেন্দ্রিক এই নতুন মেরুকরণ আগামীর রাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
