উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানানোর অভিযোগে ধৃত ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) দুই তরুণ মুখ আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের পুলিশি রিমান্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি পেতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারকে নিশানা করে পুরো বিষয়টিকে ‘রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস’ ও ‘পুলিশি অত্যাচার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ওই যুব নেতাদের অবিলম্বে ও বিনাশর্তে মুক্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৩ অক্টোবর। দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরকে (Jantar Mantar) ধর্নাস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তালাবন্ধ ফটক টপকে ভিতরে ঢুকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে আশুতোষ এবং সৌরভের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিকভাবে ৫ দিনের হেপাজত শেষে সোমবার তাঁদের পুনরায় বিচারালয়ে তোলা হলে বিচারক মেয়াদ আরও ২ দিন বাড়িয়ে দেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে আইনি পদক্ষেপকে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে বলে সুর চড়িয়েছে সিজেপি নেতৃত্ব।
এই আবহে এক্স হ্যান্ডলে সরব হয়ে মমতা লিখেছেন, “আশুতোষ ও সৌরভের পুলিশি হেপাজতের মেয়াদ বাড়ানোর এই মরিয়া ও সংকীর্ণ মানসিকতা আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি। গণতন্ত্রকে প্রতিদিন আক্রমণ করার জন্য এটি একটি বিপজ্জনক ‘ভাইরাস’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। জেন জি-র ওপর অত্যাচার বন্ধ করুন। আজ যাঁরা ক্ষমতার মসনদে বসে আছেন, তাঁরা চিরকাল ক্ষমতায় থাকবেন না।” জাতীয় রাজধানীতে পুলিশি পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে তিনি সংযোজন করেন, “কলকাতা থেকে দিল্লি, মুম্বই – সারা দেশ জুড়ে নির্যাতন ও অত্যাচারের মাত্রা সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে। আমাদের পূর্বসূরিরা যখন ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তাঁদেরও চরম অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল এবং তবুও তাঁরা পরম নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছিলেন।”
কেন্দ্রের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে কাঠগড়ায় তুলে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “এটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাস। এগুলি পুলিশ-স্পন্সরড অত্যাচার। এই ধরনের জবরদস্তি বেশি দিন টেকে না। যখন আদর্শবাদী মানুষরা ‘ভারতকে বাঁচাও, গণতন্ত্রকে বাঁচাও’ এই স্লোগান তুলে দৃঢ়ভাবে রুখে দাঁড়াবেন – শুধুমাত্র তখনই সরকারের এই অহংকারী ও অন্ধ রাজনীতিবিদদের চোখ খুলবে। তবে ততক্ষণে দেশের সাধারণ মানুষ জয়ী হয়ে যাবেন এবং গণতন্ত্রেরএই খুনিদের পতন সম্পূর্ণ হবে।” একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, “আপনারা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তবে অবিলম্বে আশুতোষ এবং সৌরভকে মুক্তি দিন।” দিল্লির ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিরুদ্ধে জেন জি-র ছাত্র-যুবদের আন্দোলনকে গোড়া থেকেই সমর্থন জুগিয়ে আসছেন মমতা। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে এর আগে তিনি দিল্লি পুলিশের হাতে আটকও হয়েছিলেন। নতুন করে হেপাজত বৃদ্ধির পর মমতার এই রুদ্ররূপ জাতীয় দরবারে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

