উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: সোমবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক লাইভের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বিকেল বেলা ফেসবুকেই থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ, বাড়ি থেকে আর বেরোতে হবে না। আর যাতে বেরোতে না পারেন ‘সেই ব্যবস্থা’ তিনি করবেন। আর এই বক্তব্যর পরই সরব হয়েছেন খোদ মমতা নিজেই (Mamata Banerjee assertion)। সমাজমাধ্যমে ভারতের রাষ্ট্রপতি, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি লেখেন, ‘সরকারি কার্যালয়ে বসে প্রকাশ্য হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং ঘোষণা করা হয়েছে যে, আমার পক্ষে বাড়ি থেকে বের হওয়া পর্যন্ত অসম্ভব করে দেওয়া হবে। ’ এরপরই রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে মমতার প্রশ্ন, ‘এটি কি আমাদের সংবিধানের কল্পনার ভারত? (Constitutional democracy) সংবিধান রক্ষায় শপথ নেওয়া একজন আসীন মুখ্যমন্ত্রী প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারপার্সনের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ করার প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন।’
মমতা তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “আমি নিশ্চিত করব যাতে আপনি বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন।” এর অর্থ কী? গৃহবন্দিত্ব? ভীতি প্রদর্শন? নাকি রাজনৈতিক নিপীড়ন? সাংবিধানিক গণতন্ত্রে কার স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার থাকবে, তা নির্ধারণ করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? হয়তো তিনি আমাকে এমন কারোর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলছেন যিনি স্বৈরাচারের সামনে মাথা নত করেন। এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা।’ মমতার অভিযোগ, ভারত এক বিপজ্জনক স্বৈরাচারী সময়ের সাক্ষী হতে চলেছে।
এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেন। তিনি সরাসরি জানান, অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার নিয়ে যোগ্য-অযোগ্যর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে কেন সেই মাপকাঠির কথা উল্লেখ করা হয়নি, যাঁরা এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাঁদের নিজেদের এলাকায় তালিকা তৈরি করে রাখার কথা পরামর্শ দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হামলা’, পুলিশ দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের হেনস্তা সহ একগুচ্ছ অভিযোগ করেন তিনি। নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করার সময় এর প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী (Subhendu Adhikari response)। তিনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিতে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এরপরই তাঁকে ফেসবুকেই থাকার পরামর্শ দেন।

