উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর কালীঘাটে নিজের বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তীর (Rabindra Jayanti) মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সন্ত্রাসের বজ্রাঘাত’ বলে অভিহিত করে বিজেপিকে রুখতে বাম, অতিবাম এবং সমস্ত অ-বিজেপি শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, “এখন কে কোন দল করে তা ভাবার সময় নয়। আমাদের প্রথম শত্রু বিজেপি। জীবন বাঁচাতে, গণতন্ত্র বাঁচাতে বাম, অতিবাম, এনজিও, ছাত্র-যুব সংগঠন— সবাইকে বলব জোট বাঁধুন। আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী মঞ্চ গড়তে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু। কেউ চাইলে বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে সরাসরি আমার সাথে কথা বলতে পারেন।”
মমতার অভিযোগ, রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের জন্য ‘দেশ বাঁচাও গণতান্ত্রিক মঞ্চ’ তিনটি জায়গায় অনুমতি চেয়েও পায়নি। এমনকি তাঁর নিজের বাড়িতে অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রেও ডেকরেটরদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, “সব বাধা অগ্রাহ্য করে আমরা নিজেরাই দুটো চৌকি কিনে আর মাইক বক্স জোগাড় করে এই অনুষ্ঠান করছি।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল কর্মীদের ওপর ‘বল্গাহীন সন্ত্রাস’ চলছে। এমনকি তাঁর ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে বহিরাগতরা এসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে তিনি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, “আমার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ফোন, মেসেজ আসছে না। গত পরশু থেকে এই পরিস্থিতি।” ২০১১ সালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি জেতার পর বুদ্ধদেববাবুকে নিরাপত্তা দিয়েছিলাম, কিন্তু ওরা জেতার পর রাতারাতি আমাদের সব নিরাপত্তা তুলে নিয়েছে।”
নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, “লড়াইটা আমরা জিতেছি, আমাদের চক্রান্ত করে হারানো হয়েছে।” তিনি জানান, সোনিয়া গান্ধি, রাহুল গান্ধি, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো জাতীয় স্তরের নেতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ECI) তথ্য অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি এবং তৃণমূল ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে। বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের হার যেখানে ৪৫.৮৪ শতাংশ, সেখানে তৃণমূল পেয়েছে ৪০.৮০ শতাংশ ভোট।
ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত কর্মীদের আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করতে ‘তহবিল’ গড়ার ঘোষণাও করেছেন মমতা। আইনি দিকটি দেখবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার এই জোটের আহ্বানের প্রেক্ষিতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করে কটাক্ষের সুরে বলেন, “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো।”
