উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন ঘিরে ফের একবার নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে কমিশনের একাধিক ত্রুটির কথা তুলে ধরে তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ বিহার ও বাংলায় এসআইআরের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। বিহারে বংশতালিকাকে নথি হিসেবে মান্যতা দেওয়া হলেও বাংলায় তা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ মমতার। এমনকি এই সংক্রান্ত নির্দেশ সব হোয়াটসঅ্যাপ মারফত দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রথাগত বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ নির্দেশিকা ছাড়াই কমিশন হোয়াট্সঅ্যাপের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতি দিন নিত্যনতুন নির্দেশ দিচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর বক্তব্য, বহু সময়েই দেখা যাচ্ছে কমিশনের দু’টি নির্দেশ একটি অপরটির পরস্পরবিরোধী।৩ পাতার চিঠিতে মমতা জ্ঞানেশ কুমারকে অভিযোগ করেছেন, অনিয়ম না শুধরে নিলে বহু ভোটার তাদের বৈধ ভোটাধিকার হারাবেন। মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত আধিকারিক তালিকা উপেক্ষা করে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। অভিজ্ঞতাহীন কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, তাঁরা নির্ধারিত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ করছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ ইআরওদের অন্ধকারে রেখে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী এমনটা করা যায় না বলে মমতা চিঠিতে লিখেছেন। এর আগে ২০ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছিলেন মমতা। শনিবার এই নিয়ে তৃতীয়বার চিঠি দিলেন তিনি। গোটা প্রক্রিয়ায় কোনও অবৈধ কাজ হয়ে থাকলে তার দায় কমিশনের উপরেই বর্তাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
শুনানিতে তলব নিয়েও বড় অভিযোগ রয়েছে মমতার। তিনি চিঠিতে লিখেছেন, এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়ায় কোনও কারণ না জানিয়ে ভোটারদের ডেকে পাঠানো হচ্ছে। এর ফলে ভীতি ও আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে। কারও নামের বানান ভুল থাকলে কিংবা বয়সের ফারাক থাকলে ভোটারদের হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
