কোচবিহার: ব্যবধান মাত্র কয়েক দশকের। কয়েক দশক আগেও বিভিন্ন বাড়িতে একটা নয়, বেশ কয়েকটা সাইকেলের দেখা মিলত। বাজার, দোকান করা বা পড়তে যাওয়া, সবকিছুতেই অপরিহার্য ছিল দু’চাকার এই যান। সাইকেলে করে দলবেঁধে পড়তে যাওয়ার আলাদাই একটা মাধুর্য ছিল। মাধ্যমিকে ভালো রেজাল্ট করলে অভিভাভবকরা পড়ুয়াদের সাইকেল উপহার দিতেন। ওই সময় অনেকেই রসিকতা করে বলতেন ছেলে বা মেয়েটি সাইকেলের লোভেই মন দিয়ে পড়াশোনা করে ভালো রেজাল্ট করেছে। শুধু কি আর রেজাল্ট, বিয়েতেও সাইকেল দেওয়ার চল ছিল। মাত্র কয়েক দশকের ব্যবধানে সাইকেলের ব্যবহার যে এত কমে যাবে, সেটা তখন কে-ই বা ভেবেছিল।
সাইকেলের ব্যবহার এত কমে যাওয়ার পিছনে প্রধান কারণ স্কুটি এবং বাইকের ব্যবহার বৃদ্ধি। সহজ কিস্তিতে স্কুটি এবং বাইক পাওয়া যাওয়ায়, অনেক মানুষই এখন সাইকেল না কিনে স্কুটি বা বাইক কিনছেন। এর পাশাপাশি সরকারের তরফে সবুজ সাথী প্রকল্পের অধীনে সাইকেল দেওয়ার ফলেও সাইকেলের বিক্রি কমেছে বলে মত সাইকেল ব্যবসায়ীদের। সাইকেল বিক্রেতা সঞ্জয় পাল বলেন, ‘ক্লাস নাইনে উঠলেই পড়ুয়ারা সবুজ সাথীর সাইকেল পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ সাইকেলের বিক্রি কমেছে অনেকটাই। এখন সবার পছন্দ গিয়ার দেওয়া সাইকেল, মোটা চাকার সাইকেল বা ব্যাটারিচালিত সাইকেল। ইয়াং জেনারেশন এখন অত্যাধুনিক এই ধরনের স্টাইলিশ সাইকেলের প্রতি ঝুঁকেছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘আগে দিনে ১৫-২০টা সাইকেল বিক্রি হত। এখন তার অর্ধেকও হয় না। যা বিক্রি হয় সব স্টাইলিশ সাইকেল। সাধারণ সাইকেলের আর সেই অর্থে বাজার নেই।’
১০০ বছর কি তারও আগে কোচবিহার স্টেট পুলিশের ১১টা মতো সাইকেল ছিল বলে জানা যায়। লাল রংয়ের ওই সাইকেলগুলি বরাদ্দ ছিল কেবলমাত্র পুলিশদের জেলাজুড়ে টহল দেওয়ার জন্য। সময়ের সঙ্গে সেই লাল সাইকেলগুলোও জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়।
তবে বেশ কিছুদিন ধরে উলটো একটা ট্রেন্ডও নজরে পড়ছে। ইদানীং ছোটখাটো টুকটাক কাজ করার জন্য আধুনিক সাইকেল কিনছেন অনেকেই। বেশিরভাগের বয়সই ৪০-এর বেশি। জিম যাওয়ার অনীহা বা সময়ের অভাবে সাইকেল চালিয়ে সেই ঘাটতি মিটিয়ে নিতে চাইছেন তাঁরা। যদিও এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা খুবই কম। তবুও অল্প হলেও সচেতনতা বাড়ছে।
এই বিষয়ে এমজেএন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অম্লান ভদ্র বলেন, ‘কেউ যদি দিনে ১৫-২০ মিনিট সাইকেল চালায় সেটা দারুণ এক্সারসাইজ।’
চলতি বছরের জুন মাসে কোচবিহার শহরে একটি সাইকেল চালানোর গ্রুপ খোলা হয়। ইতিমধ্যেই এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১৫৩ ছাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে মানুষ নিজের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের প্রতি সচেতন হওয়ার জন্য আবার সাইকেলের দিকে ঝুঁকবে বলে আশা করছেন এই গ্রুপের সদস্যরা।
