উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। প্রতীক থেকে শুরু করে দলীয় তহবিল কিংবা পার্টি অফিস—সবকিছুই হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম। অত্যন্ত বিশ্বস্ত কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে প্রতি মুহূর্তে যখন বাঁচা-মরার নতুন রণকৌশল তৈরি করতে হচ্ছে, ঠিক তখনই এক সময়ের ছায়াসঙ্গী তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির খোঁজ নিতে তাঁর ভবানীপুরের বাসভবনে হাজির হলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে দলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন ৭৫ ঊর্ধ্ব সুব্রত বক্সি। তাঁর সেই আর্জি মেনে নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো সম্প্রতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে (Chandrima Bhattacharya) নতুন রাজ্য সভাপতি পদে বসিয়েছেন। সম্প্রতি একটি অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে ভবানীপুরের প্রিয়নাথ মল্লিক লেনের বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন বক্সি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সুব্রত বক্সির বাড়িতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিশদ খোঁজখবর নেন মমতা। সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। দলীয় সূত্রে খবর, শুধু সুব্রতবাবুর শারীরিক খোঁজ নেওয়াই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে নিজস্ব কিছু পরামর্শ নিয়েছেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক সেখানে কাটানোর পর তিনি কালীঘাটে ফিরে যান।
তবে নেত্রী যখন ভবানীপুরে পুরনো সহযোদ্ধার পাশে, ঠিক তখনই বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটনে প্রকাশ্যে চলে এল দলের নজিরবিহীন কোন্দল। সেখানে তৃণমূলের একটি পার্টি অফিসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল কর্মী কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেয়। খবর পেয়েই সেখানে ছোটেন মমতাপন্থী শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। একদিকে যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে স্ট্র্যাটেজি সাজাতে হচ্ছে, তখন কলকাতার রাজপথে পার্টি অফিস ‘দখল’-এর এই লড়াই তৃণমূলের গভীর অন্তর্দ্বন্দ্বকেই আরও একবার ফ্রন্টলাইনে নিয়ে এল।

