‘স্বজনপোষন না, নিজের দক্ষতায় সুযোগ পেয়েছি’, বলছেন চৈতিপুত্র অমর্ত্য রায়

‘স্বজনপোষন না, নিজের দক্ষতায় সুযোগ পেয়েছি’, বলছেন চৈতিপুত্র অমর্ত্য রায়

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


প্রথম পরিচালিত ছবি মুক্তির সময় টেনশন, না এক্সাইটমেন্ট?
চৈতি : আমার পোস্ট প্রোডাকশনে প্রচুর চাপ ছিল। অমর্ত্য শুধু এই ছবির নায়ক নয়, অ্যাসোসিয়েটও বটে। আমার টিম খুব সাহায্য করেছে। আমি প্রতিটা বিষয় নিয়ে খুব খুঁতখুঁতে। ছবি বানিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং।

ছবির সাফল্যের জন্য প্রমোশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
চৈতি : প্রোমোশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ছবি বানালেই হবে না। প্রত্যেকটা ছবির একরকম প্রোমোশন হতে পারে না। প্রোমোশনের ক্ষেত্রে মুম্বই অনেক এগিয়ে আছে। ওখানে ইমতিয়াজ আলির ছবি যেভাবে প্রোমোট করা হয়, সলমন খানের ছবি কিন্তু সেই এক রকম প্রোমোশন হয় না।

আরও পড়ুন:

ঋতুর সঙ্গে আমার কোনও দ্বন্দ্ব হয়নি। একটা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিবারে বাঙালি মেয়ে যেরকমভাবে বেড়ে ওঠে, আমার আর ঋতুর বড় হওয়াটা সেরকমভাবে।

আপনাদের ছবি ‘নেভারমাইন্ড’-এর প্রোমোশনেও অভিনবত্ব ছিল। পার্ক স্ট্রিটে বাক্সিং করা হয়েছে। এই ইনপুটগুলো কীভাবে যোগ হল?
চৈতি : এ বিষয়ে অমর্ত্য অনেক সাহায্য করেছে।
অমর্ত্য : কলকাতায় কলেজ লাইফে আমার একটা ব্যান্ড ছিল। এর আগে কলকাতার রাস্তায় আমি বন্ধুদের সঙ্গে গান গেয়েছি। আমাদের ছবির ‘সোল’ মিউজিক। ছবিতে মিউজিক করেছেন রকস্টার রূপম ইসলাম। তাই আমাদের ছবি প্রোমোশনের জন্য বাক্সিং তো বনতাই হ্যায়।

মা-ছেলে চৈতি-অমর্ত্যর এই সিনেসফরের দোসর হয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

প্রথম পরিচালনায় ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে নিয়ে কাজ করলেন। ঋতুপর্ণা আপনার দীর্ঘদিনের বন্ধু। সে ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব কতটা সাহায্য করেছে?
চৈতি : ঋতুপর্ণার প্রযোজনা সংস্থা তরুণ মজুমদারের ছবি প্রযোজনা করেছে। ঋতুর এই গল্পটা খুব ভালো লেগেছিল। তাই ও এগিয়ে এসেছে। আমি ঋতুপর্ণাকে খুব ভালোভাবে জানি। ও কখন চলে যেতে পারে (হাসি)! এটুকুই বলব, ঋতুর সঙ্গে এই ছবিটা করতে গিয়ে ওর সঙ্গে আমার প্রোডিউসার, ডিরেক্টরের ভাবনা আদান-প্রদান করতে সুবিধা হয়েছে। ঋতু এবং আমি দু’জনেই ডিসিশন মেকার।

এ ক্ষেত্রে দু’জনের দ্বন্দ্ব হয়নি?
চৈতি : ঋতুর সঙ্গে আমার কোনও দ্বন্দ্ব হয়নি। একটা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিবারে বাঙালি মেয়ে যেরকমভাবে বেড়ে ওঠে, আমার আর ঋতুর বড় হওয়াটা সেরকমভাবে। তাই আমাদের পছন্দটা একরকম। কিছু ক্ষেত্রে ঋতু আমার কথাকে প্রাধান্য দিয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে উল্টোটাও হয়েছে।

এই ছবিতে অনেক গুণী অভিনেতা অভিনয় করেছেন। সেট-এ তাঁদের সামলাতে বেগ পেতে হয়েছে?
চৈতি : না, সবাই প্রায় আমার বন্ধু। তাই কাজটা করতে সহজ হয়ে গিয়েছে। তবে আমার বন্ধুরা বেয়াদপও কম নয় (হাসি)। রূপমের সঙ্গে আমার পরিচয় থাকলেও, এই কাজ করতে গিয়ে এক এনিগম্যাটিক জার্নির সাক্ষী থাকলাম। অনেক লোকেশনে শুট করেছি। এক অন্য কলকাতাকে তুলে ধরেছি।
অমর্ত্য : আমাদের ছবিতে চার-পাঁচটা এমন জায়গা আছে, যেখানে এর আগে কখনও বাংলা ছবির শুটিং হয়নি।
চৈতি : পার্ক স্ট্রিটের নিয়ন আলোর নিচে একটা কালো নগ্ন চেহারা রয়েছে, সেটা তুলে ধরেছি।

ছেলেটি যে তথ্যচিত্র বানায় সেটা ইউরোপের ফেস্টিভ্যালে যায়। বা এই ছেলেটি মুম্বইয়ে অডিশন দিয়ে একটি আড়াইশো কোটি বাজেটের ছবিতে সুযোগ পেয়েছে। এই ছবিতে একজন অভিনেতা হিসেবে স্কিলের ভিত্তিতেই আমি সুযোগ পেয়েছি বলে মনে করি।

অমর্ত্য, মায়ের পরিচালিত ছবিতে কাজ করেছেন বলে কি বাড়তি দায়িত্ব ছিল? হিরো সুলভ আদর-যত্ন পেয়েছেন?
অমর্ত্য : হিরোদের আদর-যত্নে আমি বিশ্বাসী নই। আমি তো ফিল্ম স্কুলে পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করেছি। তাই আমি ভ্যানিটি ভ্যানে বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারি না। আমি মুম্বইয়ে কাজের সময়েও ডিরেক্টরের পাশে গিয়ে বসে থাকতাম। যাঁরা ছবি বানান, তাঁদের কাজ সামনে থেকে দেখতে আমার খুব ভালো লাগে। এই ছবিতে আমি অনেক কিছুর দায়িত্ব সামলেছি। পরিচালক, প্রযোজক সেই স্পেসটা দিয়েছেন।

অমর্ত্য, আপনি বলিউডে ‘ময়দান’ করেছেন। এর পরে মায়ের পরিচালনায় কাজ করছেন। নেপোটিজমের ট্যাগ ভাবায়নি?
অমর্ত্য : যাঁরা সহজেই নেপোটিজমের ট্যাগে দাগিয়ে দেবেন তাঁরা তো সহজ পথটাই বেছে নেবেন। তাঁরা খবর রাখবেন না, যাকে নেপোটিজমের ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট থেকে পরিচালনা নিয়ে পড়াশোনা করেছে। যেখানে প্রত্যেক বছর হাজার হাজার ছেলেমেয়ে এন্ট্রান্স দেয় কিন্তু মাত্র কয়েকজন সুযোগ পায়। ছেলেটি যে তথ্যচিত্র বানায় সেটা ইউরোপের ফেস্টিভ্যালে যায়। বা এই ছেলেটি মুম্বইয়ে অডিশন দিয়ে একটি আড়াইশো কোটি বাজেটের ছবিতে সুযোগ পেয়েছে। এই ছবিতে একজন অভিনেতা হিসেবে স্কিলের ভিত্তিতেই আমি সুযোগ পেয়েছি বলে মনে করি।

 ‘রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি’ এটা আমি ছোটবেলাতেই শিখেছিলাম এবং মনে করি এটা করা উচিত নয়। বাঙালি করেও রেখেছি। আবার যথাসাধ্য মানুষ করার চেষ্টাও করেছি।

জীবনের কোনও ‘নেভারমাইন্ড’ সিচুয়েশন আছে?
চৈতি : আমাদের জীবনে এরকম বহু ঘটনা ঘটে যাকে বাধ্য হয়ে বলতে হয় ‘নেভারমাইন্ড’। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলা। আবার অনেক ঘটনা ঘটে, যে গুলোকে ‘নেভারমাইন্ড’ বলা যায় না।

ইন্ডাস্ট্রিতে এইরকম ঘটনার শিকার হয়েছেন?
চৈতি : শিকার হয়েছি। আমার তখন ক্লাস টুয়েলভের পরীক্ষা। একজন প্রযোজক-পরিচালক একটি ছবিতে কাজ করার জন্য খুব জোর করেছিলেন। আমাকে সারারাত জাগিয়ে স্ক্রিপ্ট পড়ালেন। পরেরদিন আমার শান্তিনিকেতনে শুটিংয়ে যাওয়ার কথা। আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি বাড়ির পরিবেশ থমথমে। মা একটা চিঠি দিলেন আমার হাতে। সেই চিঠিতে লেখা, ‘চৈতি এবারটা তোমাকে নেওয়া গেল না। পরের ছবিতে নিশ্চয়ই তোমাকে নিয়ে কাজ করব।’ এই ঘটনাটা আমায় শিখিয়েছে ‘নেভারমাইন্ড’। আজ আত্মবিশ্লেষণ করে এটুকু বলতে পারি, সেই ডিরেক্টরের নাম মুছে গিয়েছে। চৈতি ঘোষাল থেকে গিয়েছে।
অমর্ত্য : আমি যখন বম্বেতে থাকছিলাম তখন একমাস জুড়ে সারা শহরে আমার পোস্টার ছিল। তারপর একমাস পরে সেই ব্যানারগুলো সরে যায়। তখন আমি আর পাঁচটা সাধারণ নাগরিকের মতোই ওই মায়াবী শহরে থেকেছি। অভিনয় করেছি। জীবনে সাফল্য যেমন আসবে, ব্যর্থতাও আসবে। ‘ময়দান’-এর সাফল্য দেখেছি। আবার ভারসোভা বিচে রাতে একা বসে থেকেছি। তাই সাফল্য, ব্যার্থতা দুই ঘটনাকেই ‘নেভারমাইন্ড’ বলতে শিখেছি।

সিনেইন্ডাস্ট্রির খুঁটিনাটি বিষয়ে ছেলে অমর্ত্যকে কীভাবে গাইড করেছেন চৈতি ঘোষাল?

এই জীবনবোধের পাঠ দিতে পেরে মা হিসাবে গর্বিত?
চৈতি : আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। ‘রেখেছো বাঙালি করে, মানুষ করোনি’ এটা আমি ছোটবেলাতেই শিখেছিলাম এবং মনে করি এটা করা উচিত নয়। বাঙালি করেও রেখেছি। আবার যথাসাধ্য মানুষ করার চেষ্টাও করেছি।

মা হিসাবে ইন্ডাস্ট্রির খুঁটিনাটি বিষয়ে ছেলেকে কীভাবে গাইড করেছেন?
চৈতি : আমি আমার মতো করে চেষ্টা করেছি। অমর্ত্যর শুরু বুম্বাদার প্রোডাকশন হাউসে। সেই ছবির প্রিমিয়ারে আমরা একসঙ্গে গিয়েছিলাম। তখন বুম্বাদা বলেছিল, ‘তুই আজকে কেন বাবিকে (অমর্ত্য) নিয়ে এসেছিস। ওকে ছেড়ে দে।’ খুব ভালো রেজাল্ট করে একটা বড় চাকরি পেয়ে গেলাম, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটা কিন্তু সেরকম নয়। খুব ভালো রেজাল্ট করার পরেও প্রতিনিয়ত নিজেকে প্রমাণ করে যেতে হয়।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *