উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) পর্বের পর এবার দীর্ঘ দেড় দশক বাদে শুরু হওয়া জনগণনা বা সেনসাস (Census) নিয়েও তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে, এই জনগণনার আড়ালে আবার সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার কোনো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে কি না। রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এদিন ফেসবুক লাইভ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, জনগণনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলকেই যুক্ত করা হচ্ছে না, অন্তত তাঁদের দলকে এবিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। তাঁর আশঙ্কা, “কে দেখবে যে কার নাম থাকবে, কার নাম বাদ যাবে?” অতীতের এসআইআর প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি দাবি করেন, সেসময় অনেকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং এখনও ৩২ লক্ষ মানুষের নাম তালিকায় ওঠেনি। তাই এই সেনসাস আদৌ অন্য কোনো রূপ নিয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
যদিও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণনা প্রক্রিয়ায় কোনো কালেই রাজনৈতিক দলগুলির কোনো আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের নিয়ম থাকে না। ২০১১ সালের পর এবারই প্রথম দেশজুড়ে জনগণনার কাজ শুরু হয়েছে। প্রবীণ বাম নেতা রবীন দেবও স্বীকার করেছেন যে, অতীতে কখনোই রাজনৈতিক দলগুলি সেনসাস প্রক্রিয়ার অংশ ছিল না, দলগুলি কেবল নিজেদের সাংগঠনিক স্তরে সতর্ক দৃষ্টি রাখে। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে তীব্র আক্রমণ করে বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে ফেলার ফলেই এই ধরনের ভিত্তিহীন কথা বলছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিনের লাইভ থেকে শুধু জনগণনা নয়, একাধিক জনমুখী প্রকল্প ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন মমতা। অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা না পৌঁছনো এবং বহু মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগে তিনি বর্তমান সরকারকে কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হস্তক্ষেপে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে বিজেপি ও আরএসএসকে একহাত নেন তৃণমূল নেত্রী।

