উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটগ্রহণের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনে (Falta Re Election) ঘটে গেল নজিরবিহীন এক রাজনৈতিক উলটপুরাণ। মঙ্গলবার, প্রচারের একেবারে শেষ লগ্নে এসে ভোটের ময়দান থেকে সম্পূর্ণ সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোনো চাপ ছিল কি না, তা স্পষ্ট না করলেও, প্রকাশ্য সাংবাদিক বৈঠকে জাহাঙ্গিরের এই সিদ্ধান্ত বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
যদিও স্ক্রুটিনি এবং মনোনয়ন প্রত্যাহারের আইনি সময়সীমা ইতিমধ্যেই পার হয়ে গিয়েছে, ফলে আগামী ২১ মে ইভিএম (EVM) মেশিনে জাহাঙ্গির খানের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক অপরিবর্তিতই থাকছে। কিন্তু প্রার্থীর নিজের মুখে “আমি লড়ছি না” ঘোষণার পর, ফলতার মাটিতে ঘাসফুল শিবিরের লড়াই যে কার্যত শুরুর আগেই শেষ হয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
মঙ্গলবার সকালে নিজের বাসভবনে একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন সাদা শার্ট ও কালো ট্রাউজার্স পরিহিত জাহাঙ্গির—যাঁকে রাজনৈতিক মহল ভালোবেসে ‘পুষ্পা’ নামেও ডাকে। সেখানে অত্যন্ত আবেগঘন গলায় তিনি বলেন, ‘আমি এই ফলতারই ভূমিপুত্র। আমার স্বপ্ন ছিল একটি সোনার ফলতা গড়ে তোলার। রাজ্যের সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক প্যাকেজের (Particular Bundle) কথা ঘোষণা করেছেন। আমি চাই ফলতা শান্ত থাকুক এবং এখানে আরও বেশি উন্নয়ন হোক। তাই এই পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে আমি নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছি।’ বক্তব্য রাখার সময় স্পষ্টতই গলা ধরে আসতে দেখা যায় এই তৃণমূল নেতাকে। তবে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের কোনো নির্দেশ এর পেছনে কাজ করেছে কি না, সেই জল্পনা তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন।
ঠিক যে মুহূর্তে ফলতার ঘরের ছেলে জাহাঙ্গির খান ঘরের কোণে বসে সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন, কাকতালীয়ভাবে ঠিক সেই সময়ই ফলতার রাস্তায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে বিশাল ‘রোড শো’ করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তৃণমূল প্রার্থীর এই আকস্মিক ‘ওয়াকওভার’-এর খবর পৌঁছানো মাত্রই গেরুয়া শিবিরে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস দেখা যায়। নির্বাচনী আবহের মাঝেই ফলতার রাস্তায় রাস্তায় আবির খেলায় মেতে ওঠেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ঘটনা কেবল ফলতার জয়-পরাজয় নির্ধারণ করল না, বরং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যের দেওয়ালেও একটা বড়সড় ফাটল ধরিয়ে দিল। এখন দেখার, ২১ মে ব্যালট বাক্সে এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের ঠিক কী প্রভাব পড়ে।
