উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে যখন ভাঙনের সুর, ঠিক তখনই দলের রাশ নিজের হাতে তুলে নিলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Mamata Banerjee) পদত্যাগের পর রাজ্য সভাপতির পদটি আর কাউকে না দিয়ে নিজেই সেই দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। শুধু তাই নয়, সাংগঠনিক গতি ফেরাতে মদন মিত্র ও কুণাল ঘোষকে দলের সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
শনিবার বিকেলে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের নতুন রণকৌশল ঘোষণা করেন। সুব্রত বক্সীর অসুস্থতা এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ইস্তফার প্রেক্ষাপটে সংগঠন পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং বেলেঘাটার কুণাল ঘোষকে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ করেছেন। মমতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সনের পাশাপাশি রাজ্য স্তরের প্রতিটি ছোটখাটো বিষয়ও এখন তাঁর সরাসরি নজরে থাকবে।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের দলত্যাগ নিয়ে এক কঠোর বাস্তবের সুর শোনা গেল মমতার গলায়। তিনি বলেন, ‘কে ছেড়ে গেল, তাতে কিছু যায় আসে না। আমি নেতা চাই না, সাধারণ কর্মী চাই।’ দলত্যাগী নেতাদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা, প্রতীক বড় নয়, মানুষের আস্থা ও লড়াইয়ের মানসিকতাই আসল শক্তি।
দলের ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাখির চোখ এখন ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ। নেত্রী জানিয়েছেন, পুলিশ এখনও সভার অনুমতি না দিলেও প্রস্তুতি জারি রয়েছে। অনুমতি পাওয়া মাত্রই সভাস্থল চূড়ান্ত করা হবে। সব প্রতিকূলতাকে হারিয়ে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মমতা নতুন কী দিশা দেখান, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।

