উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ২১ জুলাইয়ের (twenty first July) সমাবেশ ঘিরে বড়সড়ো আইনি অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নেতৃত্ব। রাস্তা আটকে জনসভা করার অভিযোগে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata-Abhishek) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলায় হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
শুক্রবার হাইকোর্টে (Calcutta Excessive Court docket) এই মামলার শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করার কথা জানান বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে কে সওয়াল করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি ইতস্ততবোধ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সম্প্রতি অভিষেকের এক মামলার দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁদের মধ্যে দূরত্বের জল্পনা তুঙ্গে। কল্যাণবাবুর এই নীরবতাই সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালত সাফ জানিয়েছে, যদি অভিষেক নিজেদের মতো করে আইনি প্রতিনিধিত্ব না করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে রুল জারি করা হবে।
২০১৮ সালে একটি জনস্বার্থ মামলার রায়ে কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, বড় কোনো রাজনৈতিক সভা বা মিছিলের জেরে শহরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, রাস্তা আটকে জনসভা করলে যানজট তৈরি হয়, যা অ্যাম্বুল্যান্স ও জরুরি পরিষেবার পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এমনকি সভার জন্য বড় রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ না করারও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা এবং ভাঙচুর বা অশান্তি রুখতে কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছিল।
আদালতের সেই নির্দেশিকা উপেক্ষা করেই বছরের পর বছর ধরে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশগুলো রাস্তা আটকে আয়োজিত হয়েছে বলে অভিযোগ। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার জেরেই এবার সরাসরি মমতা ও অভিষেককে হলফনামা দিতে বলা হয়েছে। ১৭ অগাস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

