আজ থেকে দু’বছর আগে অর্থাৎ ২০২৪ সালের পয়লা বৈশাখে সলমনের বাড়ির সামনে গুলিবৃষ্টিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল মায়ানগরীতে। ভাইজানের বাড়িতে হামলার নেপথ্যে কে? এই প্রশ্নের উত্তরে বারবার উঠে এসেছে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইর নাম। কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগের পরই থেকেই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নিশানায় ছিলেন সলমন। সেসময় জানা যায়, মার্কিন মুলুকে বসেই এই গুলিবর্ষণের ছক কষা হয়েছিল। সেখানেই লরেন্স বিষ্ণোইর ভাই অনমোল বিষ্ণোই রোহিত গোদরাকে এই হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সোশাল মিডিয়ায় অনমোলের নামের একটি প্রোফাইল থেকে একটি পোস্টও ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে হুঁশিয়ারি দিয়ে লেখা ছিল, ‘এ তো শুধু ট্রেলার ছিল’। এবার সেই ঘটনায় এল চাঞ্চল্যকর মোড়।
অভিযুক্তের আইনজীবীর দাখিল করা আবেদন অনুযায়ী, সলমনের বাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় আত্মসমর্পণ ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আনমোল। গ্যাংস্টার অনমোল বিষ্ণোই ২০২৪ সালে সলমন খানের বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর মামলায় আত্মসমর্পণের অনুমতি চেয়ে মুম্বাইয়ের বিশেষ এমসিওসিএ (MCOCA) আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁর আর্জি, মামলার বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ এবং ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে এই আত্মসমর্পণ প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:

বর্তমানে দিল্লির তিহার জেলে বন্দি আনমোল। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এএনআই) সন্ত্রাস-গ্যাংস্টার যোগসাজশ সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এখন তিনি রয়েছেন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে। এই মামলায় তাঁর বড় ভাই লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নেতৃত্বাধীন চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আনমোল তাঁর আইনজীবী মারফৎ আদালতকে জানান, ‘ন্যায্য বিচারের স্বার্থে চলমান বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আমি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করতে চাই। আমাকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার অনুমনতি প্রদান করা হোক।’
এনআইএ মামলায় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকায় মুম্বইয়ের আদালতে উপস্থিত হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন। তাই তিনি আদালতের কাছে তিহার জেল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে একটি প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করেছেন। যাতে তাঁকে আদালতে হাজির করে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর আত্মসমর্পণ নথিভুক্ত করা যায়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল সকালে মুম্বইয়ের বান্দ্রায় সলমন খানের গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশ এই ঘটনায় মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অব অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট প্রয়োগ করে এবং অভিযোগ করা হয়েছিল এই হামলা বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নির্দেশে চালানো হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনমোল বিষ্ণোইকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। দেশে পৌঁছানোর পর জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ তাঁকে সন্ত্রাস-গ্যাংস্টার নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত তদন্তের মামলায় গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
