জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা: আগামী বছরেই বিধানসভা নির্বাচন। মালদা জেলায় ভোট বৈতরণী পার করতে তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব যে রহিম বক্সীতেই আস্থা রাখছে তা দ্বিতীয় দফায় তাঁকে জেলা সভাপতির ভার দেওয়াতেই স্পষ্ট। এক কথায় মালদা জেলায় তৃণমূলের হয়ে শেষ কথা বলবেন তিনিই। আগামী বিধানসভার টিকিট পেতে ছাড়পত্র লাগবে রহিম বক্সীর। তাই তাঁকে তুষ্ট করতে তৃণমূলের সব সারির নেতারা উঠেপড়ে লেগেছেন। এই তালিকায় এবার নাম জুড়েছে রাজ্যের সেচ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের। মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রহিম বক্সীর মেয়ে আশিফার শবনমকে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা যেমন স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে সরব হচ্ছে, তেমনই তৃণমূলের অন্দরে চাপা ক্ষোভ রয়েেছ।
মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত সহকারী জেলা তৃণমূল সভাপতি রহিম বক্সীর মেয়ে, শনিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এনিয়ে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। যদিও তঁার কটাক্ষকে পাগলামি ছাড়া আর কিছু মনে করছেন না মন্ত্রী এবং জেলা তৃণমূল সভাপতি দুজনেই।
শনিবার সুকান্তর এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় মালদা জেলায়। যুগ্মসচিবের স্বাক্ষরিত চিঠি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘লক্ষ লক্ষ মেধাযুক্ত, যোগ্য বেকার তরুণ-তরুণী যখন চাকরির দাবি নিয়ে ফুটপাথে রাত কাটাচ্ছে, তখন নিঃশব্দে বিশেষ প্রভাব খাটিয়ে মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সীর কন্যাকে চাকরি পাইয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ ও জলপথ দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন! রাজ্যের অসহায় যুবসমাজকে অন্ধকারে রেখে আর কতদিন এমন ধারাবাহিক কীর্তিকলাপ চালিয়ে যাবে মাননীয়ার সরকার?’
যুগ্মসচিবের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকায় মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে রহিম বক্সীর মেয়ে আশিফার শবনমের নাম ছাড়াও মুসম্মত নেওয়াজ ফাতেমা ও রঞ্জিত রায়ের নাম রয়েছে। তাঁদের বেতন মাসিক ১০ হাজার টাকা করে নির্ধারিত করা রয়েছে চিঠিতে।
তৃণমূলের জেলা সভাপতির বক্তব্য, ‘আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। সে এখন অন্য পরিবারের সদস্য। তার সার্টিফিকেটে বাবা হিসেবে আমার নাম রয়েছে মাত্র। তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার দক্ষতা দেখে।’ সুকান্তকে পাগল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওই পাগলের কথার কী উত্তর দেব? ওরা এখন ক্ষমতার লোভে পাগল হয়ে গিয়েছে৷ যা পারছে, বকে যাচ্ছে।’
অন্যদিকে সাবিনা বলেন, ‘সুকান্তবাবুর মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার কিছু নেই৷ উনি আমার দলের নেতা নন যে আমাকে তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে৷ এই লোকটি কি পাগল হয়ে গিয়েছে? একজন অধ্যাপক মানুষ৷ তিনি কি সিস্টেম জানেন না? নাকি কিছু করতে হয় বলে এসব করছেন?’
