মুরতুজ আলম, সামসী: মালদায় (Malda) রতুয়া (Ratua)-২ ব্লকের শ্রীপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে লস্করপুর গ্রাম। ওই গ্রামের ওপর দিয়ে চলে গিয়েছে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক। জাতীয় সড়কের পাশে একটি বট গাছের নীচে প্রায় আড়াইশো বছরের বেশি পুরোনো একটি কালীপুজো (Kali Puja) হয়।
১৭৭৪ সালে এই পুজো প্রথম শুরু করেছিলেন পাশের শ্রীপুর গ্রামের মুসলিম জমিদার প্রয়াত মহসিন হোসেন চৌধুরী ও ইউসুফ হোসেন চৌধুরী। তাঁদের নিজেদের জমিতে তাঁরা প্রথম ওই পুজোটি শুরু করেন। এরপর ধীরে ধীরে পুজোটি সর্বজনীন রূপ নেয়। এখানে শাস্ত্রীয় রীতি মেনে ও নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়।
পুজো কমিটির সম্পাদক অলোক সরকার, সভাপতি সমেশচন্দ্র অধিকারী, কোষাধ্যক্ষ তপু সরকারদের কথায় জানা গেল, এবার পুজোর বাজেট প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। এই গ্রামের আশপাশে বেশিরভাগ মুসলিম অধ্যুষিত গ্রাম। তবুও এলাকার মুসলিম সমাজের মানুষ পুজোর জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এই পুজোকে ঘিরে এলাকার হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে আনন্দ উপভোগ করেন। যা এক সম্প্রীতির মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।
১২ বছর ধরে এই পুজোর প্রতিমা তৈরি করছেন আলাল জোড়গাছি গ্রামের শিল্পী সমকুল পাল। পুজোর দায়িত্বে রয়েছেন সামসীর পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী। এই কালীপুজোয় পাঁঠা ও পায়রাবলির রীতি রয়েছে।
লস্করপুর কালীপুজো উপলক্ষ্যে দু’দিন ধরে বিভিন্ন অনুষ্ঠান চলবে। যেগুলির মধ্যে রয়েছে কুইজ, নাচ, গান, আবৃত্তি সহ বহিরাগত শিল্পী সমন্বয়ে বাউলগানের আসর। এছাড়াও দু’দিন মেলা বসে। মেলায় স্থানীয়রা ছাড়াও সামসী, গাজোল, আলাল, চাঁচল, মালতীপুর, হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া এলাকা থেকে প্রচুর মানুষজন এই মেলায় আসেন। দূরদূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা মেলায় এসে তাঁদের পসরা সাজিয়ে বসেন। এই মেলায় কাঠের আসবাবপত্রের চাহিদা সবথেকে বেশি থাকে।
এমন এক কাঠের আসবাবপত্রের দোকানদার রজব আলি বলেন, ‘কালীপুজোর সময় প্রতি বছর লস্করপুরে দোকান বসাই। খাট, চৌকি, চেয়ার, টেবিল থেকে শুরু করে কাঠের তৈরি আরও বিভিন্ন আসবাবপত্র বেচাকেনা হয়। বিক্রিও বেশ ভালো হয়। দু’দিন পরে অন্য দোকানগুলো উঠে গেলেও কাঠের মেলা মাসখানেকেরও বেশি সময় ধরে চলে।’
এলাকার মুসলিম বাসিন্দা তথা পঞ্চায়েত কর্মী সইদুর রহমানের বক্তব্য, ‘লস্করপুর কালীপুজোর মেলায় হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে আনন্দ উপভোগ করেন। যুগ যুগ ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যেন এভাবেই শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে এটাই কামনা করি।’ পুজো কমিটির সম্পাদক অলোক সরকার জানালেন, পুজো কমিটির তরফে সাংসদ খগেন মুর্মু, বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী, পুলিশ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
