হরষিত সিংহ, মালদা: মরশুমের শেষলগ্নে বাজার কাঁপাচ্ছে বৃন্দাবনি আশিনা। মালদার (Malda) বাজারে সুস্বাদু এই আমের দাম এখন আকাশছোঁয়া। এই আম চাষ করে চওড়া হাসি কৃষকদের মুখে। মালদার বাজারেই এখন এই আম বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এই সময়ে অন্য কোনও প্রজাতির আম বাজারে নেই। মরশুমের একেবারে শেষে এখন শুধু মিলছে বৃন্দাবনি আশিনা প্রজাতির আম। এছাড়া আশিনা প্রজাতির আমও রয়েছে। তবে এই আম স্বাদে টক হওয়ায় চাহিদা কম। মালদা জেলা উদ্যান পালন দপ্তরের আধিকারিক সামন্ত লায়েক বলেন, ‘মরশুমের একেবারেই শেষ সময় এখন। এখন বাজারে মিলছে বৃন্দাবনি আশিনা। লেট ভ্যারাইটি প্রজাতির এই আমের স্বাদ ভালো। বাজারে বর্তমানে ১০০ টাকা ও তার থেকেও বেশি দামে এই আম বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম মেলায় কৃষকদের মধ্যে এই আম চাষের প্রবণতাও বাড়ছে।’
মালদা জেলার বিভিন্ন প্রজাতির আমের মধ্যে অন্যতম বৃন্দাবনি আশিনা। গত কয়েক বছর ধরে এই আম চাষের প্রবণতা বেড়েছে কয়েকগুণ। উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছর ধরে এই আম চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকরা অন্য আম গাছ কেটে নতুন করে বৃন্দাবনি আশিনার চারা রোপণ করছেন। রতুয়ার আমচাষি মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার বাগানে এখনও আম আছে। এই আম চাষ করে দাম ভালো পাচ্ছি। সঙ্গে খুব ছোট গাছেই ফলন ভালো। সবদিক থেকেই লাভবান হচ্ছি। এক বিঘা শুধু বৃন্দাবনি আশিনার বাগান তৈরি করেছি।’
বৃন্দাবনি আশিনা ও আশিনা- মালদার এই দুই প্রজাতির আম শেষে পাতে পড়ে। অগাস্ট মাস পর্যন্ত এই আম গাছে থাকে। সব শেষে পরিপূর্ণতা আসে। তাই শেষপর্যন্ত পাওয়া যায়। এখনও প্রায় দুই সপ্তাহ এই আম মিলবে বাজারে। বর্তমানে মালদার বাজারে বৃন্দাবনি আশিনা ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে ও আশিনা আম ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চাহিদা বেশি বৃন্দাবনি আশিনা আমের। অনুপপ্রসাদ সাউ নামে আরেক চাষি বলেন, ‘এই আম শেষে হয়। তাই দাম কয়েকগুণ বেশি পাওয়া যায়। এই আমের পরিচর্যাও অনেক কম করতে হয়। তাই লাভ বেশি হচ্ছে।’
মালদা জেলা উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদা জেলায় মোট আম চাষের প্রায় ৪০ শতাংশজুড়ে ফজলি ও লক্ষ্মণভোগ আম চাষ হয়। গত পাঁচ বছর আগে জেলায় বৃন্দাবনি আশিনা আম বাগান ছিল এক শতাংশেরও কম। বর্তমানে বৃন্দাবনি আশিনার বাগান জেলায় আম বাগানের প্রায় তিন শতাংশ। প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। ইংরেজবাজার, রতুয়া-১ ও ২, মানিকচক, কালিয়াচক-২ ও পুরাতন মালদা ব্লকে এই আম চাষের প্রবণতা বাড়ছে।
