জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা: চলতি বছর বাণিজ্যিক সিনার্জিতে মালদা (Malda) জেলায় ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সম্ভাবনা। মালদা ইন্ডাস্ট্রিয়াল চেম্বার অফ কমার্স জেলার শিল্পতালুক পুরাতন মালদার নারায়ণপুর ও গাজোলে এগারোটির বেশি নতুন শিল্প স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মেগা কোল্ড চেন এবং প্যাক হাউস। বৃহস্পতিবার মালদা কলেজ অডিটোরিয়ামের দুর্গাকিংকর সদনে ‘সিনার্জি ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হবে। উপস্থিত থাকবেন গৌড়বঙ্গের তিন জেলার প্রায় ৬০০ শিল্পদ্যোগী।
শিল্প সম্মেলনকে সফল করতে এই মুহূর্তে জেলা প্রশাসনের তৎপরতা তুঙ্গে। দায়িত্বভার গ্রহণ করেই নতুন জেলা শাসক প্রীতি গোয়েল সিনার্জি নিয়ে একটি প্রস্তুতি বৈঠক করেছেন। জেলা শিল্পকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মানবেন্দ্র মণ্ডল জানিয়েছেন, সিনার্জির উদ্বোধন করবেন ক্ষুদ্র কুটিরশিল্প দপ্তরের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা ও প্রতিমন্ত্রী তজমুল হোসেন। উপস্থিত থাকবেন এমএসএমই ও টেক্সটাইলের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পান্ডে।
গত বছর সিনার্জিতে গৌড়বঙ্গের ৪০০ শিল্পোদ্যোগী অংশ নেন। প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হলেও, এক বছরে মালদায় ৮৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়। যে টাকায় গড়ে ওঠে ইথানল কারখানা, মাখনা প্রসেসিং ইউনিট, প্লাস্টিক পাইপ কারখানা, পেপার গ্রে বোর্ড কারখানা, ওয়েস্ট প্লাস্টিক ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট ইত্যাদি।
মালদা ইন্ডাস্ট্রিয়াল চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি সৌরভ টেকরিওয়ালের কথায়, ‘গত বছর সিনার্জিতে যে পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব আমরা দিয়েছিলাম, তার নব্বই শতাংশ কার্যকর করেছি। আগামী ৫ তারিখ এবছরের প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের হাতে তুলে দেব। তবে রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে আমাদের ক্ষোভ রয়েছে। আমরা অভিযোগ জানাব। একই রাজ্যের শিল্পতালুকে বিদ্যুৎ বিলের খরচ ভিন্ন। আসানসোল-দুর্গাপুরে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের খরচ ৫ টাকা, সেখানে উত্তরবঙ্গে খরচ ৭ টাকা। প্রোডাকশন খরচ বাড়লে আমরা প্রতিযোগিতা করব কীভাবে?’
তিনি আরও জানিয়েছেন, এবার কৃষি অনুসারী শিল্পে আগ্রহী শিল্পদ্যোগীরা। পাট, মাখনা থেকে শুরু করে অনুসারী শিল্প নিয়েও ভাবনা রয়েছে। মেগা কোল্ড চেন তৈরি হলে আমের সংরক্ষণ করা সম্ভব। বিদেশি আমের রপ্তানির জন্য প্যাক হাউসের প্রয়োজন। আমরা সেই প্রস্তাবগুলো দেব। কমপক্ষে ১১টি প্রস্তাব রাখব। পর্যটন শিল্পকেও সিনার্জিতে জায়গা দেওয়ার দাবি জানাব।’ মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি জয়ন্ত কুণ্ডু বলেন, ‘গত বছরের সিনার্জি সফল হয়েছিল। এক হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবের প্রায় সিংহভাগ কার্যকর হয়েছে। এবছরও ভালো বিনিয়োগ হবে। নারায়ণপুর ও গাজোলে একগুচ্ছ নতুন শিল্প স্থাপিত হবে। শিল্পদ্যোগীরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মালদায় শিল্পের বিকাশ ঘটাতে চাইলে, যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভালো করতে হবে। দ্রুত বিমানবন্দর চালু করতে হবে। এই বিষয়টি আমরা সিনার্জিতে জানাব।’
