Malda | ভোট মিটলেও কাটেনি ‘ক্ষত’! মালদার স্কুলগুলোতে মদের বোতল আর ভাঙা বেঞ্চ; পড়াশোনা লাটে

Malda | ভোট মিটলেও কাটেনি ‘ক্ষত’! মালদার স্কুলগুলোতে মদের বোতল আর ভাঙা বেঞ্চ; পড়াশোনা লাটে

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


Uploaded By: Sushmita Ghosh

জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা: ভোট পর্ব চুকিয়ে মালদা (Malda) ও পুরাতন মালদা (Outdated Malda) শহরের স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন শুরু করতে গিয়েই হোঁচট খেতে হল। সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিনে স্কুল খুলতে গিয়ে কোথাও পরিকাঠামোর অভাবে প্রার্থনা করার জায়গা মিলল না, কোথাও তো ক্লাসই চালু করা গেল না।

জেলার বেশিরভাগ স্কুল থেকেই চলে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কয়েকটি স্কুল এখনও জেলা প্রশাসন নিয়ে রেখেছে বটে, তবে সেখানে কোনও জওয়ান আর নেই এখন। সেইসব স্কুলে তো আর এদিন পঠনপাঠন শুরু করাই যায়নি। আর বাকি স্কুলগুলিতে কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে শ্রেণিকক্ষ সাফসাফাই করে ক্লাস চালু করার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ জায়গায় এদিন চূড়ান্ত অব্যবস্থার ছবি ধরা পড়েছে। কোথাও পড়ুয়াদের প্রার্থনা করার জায়গা এখনও টিন দিয়ে ঘেরা। কোথাও বেঞ্চ ভাঙা, বিকল জলের কলগুলি। কোথাও দেখা গিয়েছে শ্রেণিকক্ষগুলোতে আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে। ক্লাসরুমের ভিতর থেকে মদের বোতলও পাওয়া গিয়েছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ স্কুলে শৌচালয়গুলি ব্যবহারের অযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। প্রধান শিক্ষকরাই বলছেন, এই পরিস্থিতিতে ক্লাস চালু করা অত্যন্ত কঠিন।

সোমবার দুপুরে পুরাতন মালদার কালাচাঁদ হাইস্কুলে গিয়ে দেখা গেল মূল ফটকের ভিতরের অংশ এখনও টিন দিয়ে ঘেরা। এক শিক্ষক জানালেন, জওয়ানদের খাবারের জন্য অস্থায়ী ডাইনিং হল করা হয়েছিল ময়দানে। আর একপাশে তৈরি করা হয়েছিল রান্নাঘর। জওয়ানরা স্কুল ছাড়লেও তাঁদের ব্যবহৃত অস্থায়ী কাঠামোগুলো এখনও খোলা হয়নি। কবে খোলা হবে তা বলতে পারলেন না প্রধান শিক্ষক রাহুলরঞ্জন দাসও। তিনি বলেন, ‘মালদা থানার পুলিশ ক্লাসরুমগুলোকে কিছুটা ব্যবহারের উপযোগী করে দিয়েছে। বাকিটা আমরা নিজেরা করেছি। এখনও বহু বেঞ্চ, টেবিল ভাঙাচোরা। ছাত্ররা প্রার্থনাসভা করতে পারছে না।’

পুরাতন মালদা শহরের আহ্লাদমণি গার্লস হাইস্কুলেও একই চিত্র। এই স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মহিলা জওয়ানরা ছিলেন এক মাস ধরে। প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা দাস বলেন, ‘আজ থেকে ক্লাস চালু করেছি আমরা। স্কুলের মাঠে এখনও জওয়ানদের জন্য বানানো নানা কাঠামো রয়েছে। প্রার্থনাসভা করার জায়গা নেই আমাদের। বাকি সাফসাফাইয়ের বিষয়টি আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে করিয়েছি।’

আর ওসমানিয়া হাই মাদ্রাসায় তো এদিনও ক্লাস চালু করা সম্ভব হয়নি। এদিন সেখানে গিয়ে দেখা গেল মাদ্রাসা চত্বরে কোনও জওয়ান নেই। তবে প্রধান শিক্ষক আসাদুল্লা চৌধুরী বললেন, ‘জওয়ানরা স্কুল ছেড়ে দেওয়ার পরেও আবার চত্বর ব্যবহার করার জন্য আমাদের জেলা প্রশাসন চিঠি পাঠিয়েছে। তাই ক্লাস চালু করতে পারিনি।’

অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল প্রথম দফার নির্বাচনে। প্রায় এক মাস আগেই মালদা জেলায় চলে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পুরুষ ও মহিলা জওয়ানদের জন্য মালদা জেলার একাধিক স্কুল নিয়ে নেওয়া হয়। ভোটগ্রহণ পর্ব পর্যন্ত জওয়ানরা ছিলেন। ভোট পর্ব মিটতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বড় অংশ ইতিমধ্যেই জেলা ছেড়েছে। তবে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে এখনও কয়েক জায়গায় কয়েক কোম্পানি বাহিনী রয়ে গিয়েছে। ২৪ তারিখ থেকেই জেলার প্রাথমিক স্কুলগুলি সচল করার নির্দেশ এসেছে শিক্ষা দপ্তরের তরফে। কিন্তু পরিকাঠামোর সমস্যার পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষের মাথাব্যথার একটা বড় কারণ হল বিদ্যুতের বিল মেটানো। এব্যাপারে কালাচাঁদ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রাহুলরঞ্জন দাস বলেন, ‘এক মাস ধরে দিনরাত স্কুলে লাইট জ্বলেছে, ফ্যান চলেছে, মোটরচালিত পাম্প চলেছে। মোটা টাকার বিল আসবে। আমরা জেলা প্রশাসনকে শুরুতেই সাব-মিটার লাগানোর কথা বলেছিলাম। কিন্তু তা লাগানো হয়নি। এজন্য আলাদা করে আমাদের টাকা তো দেওয়া হবে না। তাহলে সেই টাকা কে দেবে?’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *