কল্লোল মজুমদার, মালদা: শহর তো বহরে বাড়ছে। কিন্তু বহুতল তৈরি করতে হলে যে জমি লাগবে! এই জমির খোঁজেই এখন প্রোমোটারচক্রের নজর মালদা (Malda) শহরের অবশিষ্ট জলাভূমির দিকে। আর মালদা শহরের বুকে সেই জলাভূমি ভরাট হয়ে যাচ্ছে খোদ পুরসভার ফেলা জঞ্জালেই। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের রাস্তা দিয়ে কিছুটা সোজা চলে গেলেই বাইপাস। বাইপাসে ওঠার মুখে বাম দিকে নজর ঘোরালেই দেখা যাবে আবর্জনার পাহাড়। পাশেই রয়েছে ইংরেজবাজার পুরসভার (English Bazar Municipality) ডাম্পিং গ্রাউন্ড। অথচ সেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড প্রায় ফাঁকা পড়ে আছে। আর পাশের একাধিক জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে সেই আবর্জনা দিয়ে। সেখানে আবার পুরসভার উদ্যোগে লাগানো বোর্ডে জ্বলজ্বল করছে, ‘এখানে আবর্জনা ফেলিবেন না।’ এমনকি আবর্জনা ফেললে শাস্তির কথাও উল্লেখ রয়েছে সেই বোর্ডে। তবে এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, পুরসভার আবর্জনা ফেলার দুটি গাড়ি পরপর দাঁড়িয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার এক টোটোচালক বললেন, ‘যে কোনওদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে এলেই দেখা যাবে, পরপর গাড়ি এসে জলাভূমিতে আবর্জনা ফেলছে। কিন্তু প্রতিবাদ করার কেউ নেই।’ পুরসভার গাড়িই যেখানে জঞ্জাল ফেলছে, সেখানে ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর বক্তব্য, ‘কে বা কারা জলাভূমি ভরাট করছে, তা দেখা এক্তিয়ারে নেই পুরসভার।’ আর জেলা শাসক নীতিন সিংহানিয়ার দায়সারা জবাব, ‘অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।’
ইতিমধ্যে বেশ কিছু জলাভূমি পুরোপুরি ভরাট হয়ে গিয়েছে। যেগুলি অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলিও ভরাট করা হচ্ছে। এবিষয়ে জেলার ভূমি সংস্কার আধিকারিকরাও প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি নন। স্কুল শিক্ষক তথা পরিবেশপ্রেমী জয়ন্ত চৌধুরীর মতে, ‘শহরের আবর্জনা নিয়ে সোজা চলে যাওয়া হয় বাইপাস সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে পুরসভার টিন দিয়ে ঘেরা জায়গায় আবর্জনা না ফেলে ঘেরা এলাকার বাইরে জলাভূমিতে ডাঁই করে ফেলা হচ্ছে।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘এভাবে জলাভূমি ভরাট হয়ে গেলে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে। ভূগর্ভস্থ জলের উৎসও দূষিত হচ্ছে। আমরা বারবার এই নিয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনও স্থায়ী ফল মেলেনি। এভাবে জলাভূমি ভরাটের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
প্রশাসনিক কর্তারা যতই কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিন না কেন, প্রকাশ্যে জলাভূমি ভরাট চলছেই। প্রশ্ন উঠেছে, আদৌ কি কখনও ঘুম ভাঙবে প্রশাসনের। আর বিড়ালের গলায় ঘণ্টাটাই বা বাঁধবে কে? এ প্রসঙ্গে পরিবেশপ্রেমী সংস্থা সহকারের সম্পাদক রূপক দেবশর্মার বক্তব্য, ‘বিভিন্ন জায়গায় জলা, পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয় না। আমরা আশা করব, প্রশাসন আগামীদিনে জলাভূমি বাঁচাতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। না হলে আগামীদিন আমাদের সবাইকেই ভুগতে হবে।’
