রতুয়া: নয়া ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট৷ বাংলায় প্রবলভাবে আন্দোলনে নেমেছে তৃণমূলও৷ ঠিক সেই সময় রতুয়ায় দেখা যাচ্ছে, ওয়াকফের জমি বেআইনিভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে৷ এখানেই শেষ নয়, দখলকারীদের একাংশ আবার তৃণমূলেরই তা স্বীকার করে নিয়েছেন রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়৷ এই ইস্যুতে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি৷ সমর জানিয়েছেন, এলাকার কিছু জমি মাফিয়া আর মতুয়ালি জোট বেঁধে ওয়াকফের সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে৷ দখল হয়ে যাওয়া ওয়াকফ সম্পত্তি উদ্ধার করতে ইতিমধ্যেই তিনি ময়দানে নেমেছেন৷ গোটা বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা৷
সমর বলেন, ‘যারা ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করে তাদের কোনও দল নেই৷ যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে তারা সেই দলে ভিড়ে পড়ে৷ এরা জমি মাফিয়া৷ এখানে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ওয়াকফ সম্পত্তি দখল করা হয়েছে৷ ওয়াকফের জমিতে প্লট করে লোক বসানো হয়েছে৷’
এক সময় জমির মতুয়ালি ছিলেন শাহিদ চৌধুরী। তিনি দীর্ঘদিন আগে মারা গিয়েছেন। এখন জমির মতুয়ালি কেউ নেই। প্রায় ১২ বিঘা জমি রুকুন্দিপুরের বিবি হাসিনা জামে মসজিদের নামে রয়েছে। অভিযোগ, শাহিদ চৌধুরীর বংশধর জোর করে জমি মাফিয়াদের মদতে ওয়াকফের সম্পত্তি বিক্রি করছেন। পাশাপাশি রতুয়ার আর এক জায়গায় প্রায় ৫২ বিঘা ওয়াকফের সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তির অর্ধেকের বেশি অংশও আরেক বংশধর প্লট করে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। বর্তমানে কলকাতা পুলিশের এক এএসআই একসময় ওয়াকফ বোর্ডের কারও দেহরক্ষী ছিলেন৷ তিনি এই কাজে জড়িত বলে অভিযোগ৷
যদিও এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বিজেপির রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়া বলেন, ‘যেটা এতদিন বিজেপি বলছিল, সেটাই এখন তৃণমূলের বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় বলছেন৷ এর জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি৷ তবে বিধায়ক এই ঘটনার ভাগ না পাওয়াতেই এখন এসব বলছেন৷ কারণ, বিগত দিনে তিনি ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন৷ সবকিছুর পিছনে রয়েছে কাটমানি৷ এসব ঘটনার পিছনে তৃণমূলের বড় বড় মাথাদেরই হাত রয়েছে৷’
সিপিএমের রতুয়া ১ নম্বর লোকাল কমিটির সম্পাদক দেবাশিস সাহার কথায়, ‘সমর মুখোপাধ্যায় এখন ওয়াকফ সম্পত্তি বাঁচানোর জন্য সচেষ্ট হয়েছেন৷ আসলে সমর এখন সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে খুব চিন্তিত৷ তাকে ব্যাকআপ দিতেই তাঁর এই নাটক৷ আসলে বিধায়ক বুঝে গিয়েছেন সংখ্যালঘুরা আর তাঁদের সঙ্গে নেই৷ নিজের আখের গোছাতে তিনি এখন এই নাটক শুরু করেছেন৷ প্রশাসনও জানে, কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত৷ পুলিশ ওয়াকফের গাছ কাটার জন্য কাউকে ধরে থানায় নিয়ে গেলে সমরবাবুর নির্দেশেই সেই ব্যক্তি ছাড়া পান৷’
