অরিন্দম বাগ, মালদা: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে পাহাড়ে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন মালদার (MALDA) অনেকেই। জেলার কত মানুষ এই মুহূর্তে পাহাড়ে আটকে রয়েছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া না গেলেও ট্রাভেল এজেন্টদের আশঙ্কা, সংখ্যাটা শতাধিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় থেকে সমতলে নামার হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে পর্যটকদের মধ্যে। তাঁদের অনেকেই আবার ট্রেনের টিকিট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মালদা শহরের এক ট্রাভেল এজেন্টট্ (Journey agent) মনমোহন সারদা বলেন, ‘মালদার অনেক মানুষ ধসের কারণে পাহাড়ে গিয়ে আটকে পড়েছেন। অনেকে আবার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতেই পারেননি। মাঝপথেই সমস্যায় পড়েছেন। বর্তমানে অনেকে টিকিট রি-শিডিউল করছেন। সব মিলিয়ে পর্যটকরা প্রবল সমস্যায় পড়েছেন। আমার অনুমান, মালদা জেলা থেকে শতাধিক পর্যটক পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।’
স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে দার্জিলিংয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন মালদার শিক্ষক অভিজ্ঞান সেনগুপ্ত। রাস্তায় ধস নামার খবর পেয়েই তিনি সঙ্গে সঙ্গে হোটেল ছেড়ে এনজেপির (NJP) উদ্দেশে রওনা দেন। ফোনে তিনি বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়েই অনুমান করতে পেরেছিলাম, সমস্যা বাড়তে পারে। তাই আগেই হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। পাঙ্খাবাড়ি রোড ধরে আমরা নীচে নেমে এসেছি। একাধিক রাস্তায় ধস নামায় বিভিন্ন জায়গায় যানজট তৈরি হয়েছে। আমরাও আট মাইল ও দালসিন সহ তিন-চার জায়গায় যানজট পেয়েছি। অবশ্য পাঙ্খাবাড়িতে দুপুরের খাবারটা জুটেছে। বিপর্যয়ের খবর পেয়ে অনেকেই ফোন করে খবর নিচ্ছেন। তিস্তা-তোর্ষা এক্সপ্রেসে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু খবর পেয়েছি, তিস্তা-তোর্ষা এক্সপ্রেস সাংঘাতিক লেটে চলছে। এখন বাড়ি পৌঁছাতে পারলে বাঁচি।’
পুরাতন মালদার মঙ্গলবাড়ির বাসিন্দা অমিত সরকারও পরিবার নিয়ে ভুটানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। প্রবল বৃষ্টির জেরে সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁদেরও। তাঁর কথায়, ‘প্ল্যান করে ঘুরতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এমন বিপর্যয় হবে, কল্পনাও করতে পারিনি। ধস নেমে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। এনজেপি পৌঁছাতে অনেকটা দেরি হয়ে যাবে। সেই কারণে ট্রেনের টিকিট ক্যানসেল করতে হচ্ছে। আপাতত ঠিক করেছি, বাগডোগরা থেকে ফ্লাইটে কলকাতায় ফিরব। তারপর ট্রেন ধরে মালদায়।’
মালদা শহরের বাসিন্দা রমেশ মণ্ডলের পরিস্থিতি অবশ্য একটু আলাদ। পাহাড়ে যাওয়ার সুযোগটাই পাননি তাঁরা। রমেশের কথায়, ‘রবিবার রাতে আমাদের পাহাড়ের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাহাড়ের যা পরিস্থিতির খবর পেলাম, তাতে পরিবারের কেউ এই মুহূর্তে পাহাড়ে যেতে চাইছে না। অথচ আমাদের সমস্ত কিছু অ্যাডভান্স করা ছিল। এখন বাধ্য হয়ে সব প্ল্যানিং ক্যানসেল করতে হচ্ছে।’
