Malda | ছাদ ফুটো, খসে পড়ছে চাঙড়! হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসকদের ঠাঁই জরাজীর্ণ কোয়ার্টারে 

Malda | ছাদ ফুটো, খসে পড়ছে চাঙড়! হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালের চিকিৎসকদের ঠাঁই জরাজীর্ণ কোয়ার্টারে 

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


হরিশ্চন্দ্রপুর: শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুতেই মালদার (Malda) হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে (Harishchandrapur Hospital) চিকিৎসক থেকে শুরু করে নার্স এবং অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের মাথা গোঁজার ঠাঁই জরাজীর্ণ কোয়ার্টার। হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালের প্রত্যেকটি কোয়ার্টারের অবস্থাই বেহাল। কোনও কোয়ার্টারের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও বা খসে পড়ছে চাঙড়। দীর্ঘদিন দেওয়াল ভিজে থাকায় সেখানে ছাতা পড়ে গিয়েছে। কোনও কোনও কোয়ার্টারের আবার ছাদ ফুটো হয়ে গিয়েছে।

বাধ্য হয়ে বর্ষার সময় জল আটকাতে ছাদের ওপর ত্রিপল টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে নার্স, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। বেশি বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে ভিতরে জল পড়ে। আবাসনের ভেতরের ঘরগুলির অবস্থা খুবই খারাপ। প্রায় সবক’টি আবাসনের এমনই ভগ্নদশা। পাশাপাশি, বৃষ্টির সময় সাপের ব্যাপক উপদ্রব হয়। কয়েক বছর আগেই হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণ হয়েছে। তখন কেন আবাসনগুলি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। আবাসনের দুরবস্থা দেখে অনেক চিকিৎসক ও নার্স এখন বাইরে ভাড়া থাকছেন। অন্যদিকে, সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রতিদিন হাসপাতাল চত্বরে কুকুর-ছাগল ঘোরাঘুরি করে। হাসপাতালের বর্জ্য ফেলার জায়গা থেকে কুকুর বর্জ্যের ব্যাগ টেনে-হিঁচড়ে মাঝেমধ্যেই এলাকা নোংরা করে।

এ বিষয়ে বিএমওএইচ (BMOH) ছোটন মণ্ডল বলেন, ‘এখানে সপ্তাহে দু’দিন বর্জ্য নিয়ে যাওয়ার গাড়ি আসে। তার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা রাখা হয়। কিন্তু সীমানা প্রাচীর না থাকাতে কুকুর ঢুকে এই ব্যাগগুলো টানাটানি করে। আর এর ফলে বর্জ্য বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে যায়। আমরা জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে এই সমস্যাগুলোর বিষয়ে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।’ বেহাল আবাসনের পাশাপাশি আরও একাধিক সমস্যাও রয়েছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ার্টারের পাশে গজিয়ে উঠেছে আগাছার জঙ্গল। রয়েছে সাপের ভয়। হাসপাতাল থেকে কোয়ার্টারে ফিরতে গেলে অন্ধকার ও জঙ্গলাকীর্ণ পথ দিয়ে ফিরতে হয় ডাক্তার-নার্সদের। এছাড়া, আবাসনের সীমানা প্রাচীর না থাকায় রাতে আতঙ্কে থাকতে হয় তাঁদের। আবাসনে একাধিকবার চুরির ঘটনাও ঘটেছে। এলাকার বাসিন্দারা বহুবার হাসপাতালে সীমানা প্রাচীর দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন, কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। আক্ষেপের সুরে দীপক দাস নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসনের সংস্কার করা।’ পাশাপাশি, বিগত ১৫ বছরে তৃণমূল আমলে এই হাসপাতালের কোনও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি বলেও অভিযোগ। এক চিকিৎসক বলেন, ‘দিনরাত পরিশ্রমের পর ঘরে যে শান্তিতে বিশ্রাম নেব, তারও উপায় নেই। আবাসনের ভগ্নদশা ও পাঁচিল না থাকায় সারাক্ষণ আতঙ্কে সিঁটিয়ে থাকতে হয়।’

হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক হাসপাতালে ডাক্তারদের জন্য তিনটি, ফার্মাসিস্ট, বিপিএইচএন ও পিএইচএন-এর জন্য দুটি কোয়ার্টার রয়েছে। অন্যদিকে, নার্সদের জন্য রয়েছে তিনটি কোয়ার্টার। গ্রুপ-ডি কর্মী কিংবা সুইপারদের জন্য কোনও কোয়ার্টার নেই। সব কোয়ার্টারের অবস্থাই বেহাল। তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই বাইরে ভাড়া থাকেন। বর্তমানে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা ৬, নার্সিং স্টাফ রয়েছেন ১৭ জন। এ ছাড়াও গ্রুপ-ডি কর্মী রয়েছেন ১১ জন। এলাকার বিধায়ক মতিবুর রহমান বলেন, ‘এই হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য আমি ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদকেও আবেদন করা হয়েছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *