সামসী: চিকিৎসায় গাফিলতি ও অপর্যাপ্ত চিকিৎসার অভিযোগে আট বছরের এক নাবালিকার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মালদার (Malda) চাঁচল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল (Chanchal Tremendous Speciality Hospital)। ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃত নাবালিকার পরিবার-পরিজনেরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় চাঁচল থানার পুলিশ।
মৃত নাবালিকার নাম পূজা কুমারী (৮)। সে হরিশ্চন্দ্রপুর-২ নম্বর ব্লকের দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা ছিল। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’দিন ধরে তীব্র জ্বরে ভুগছিল পূজা। এদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তড়িঘড়ি তাকে চাঁচল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ভর্তি করার পর শিশু বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৌমেন সাউ শিশুটির উপযুক্ত বা পর্যাপ্ত চিকিৎসা না করেই তড়িঘড়ি তাকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (Malda Medical Faculty & Hospital) রেফার করে দেন। আক্ষেপের বিষয়, অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে মালদার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় হাসপাতাল চত্বরেই মৃত্যু হয় নাবালিকার।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তাঁরা হাসপাতালেই বিক্ষোভ শুরু করেন। চিকিৎসক ও সহকারী সুপারের সঙ্গে তাঁদের তীব্র বচসা বেঁধে যায়। খবর পেয়ে চাঁচল থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত শিশুর মামা প্রদীপ রবি দাস বলেন, “চিকিৎসা করে সুস্থ করার আশায় এনেছিলাম। কিন্তু ঠিকমতো চিকিৎসা না করে রেফার করা হলো। অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার সময়ই ও মারা যায়। আমরা চিকিৎসায় গাফিলতির নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ডা. সৌমেন সাউ। তাঁর দাবি, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি হয়নি; শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার স্বার্থেই মালদা মেডিকেলে পাঠানো হচ্ছিল। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে আবারও প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড়িয়ে গেল।

