Malda | কোনো বিগ্রহ নেই, পাঁচটি পাথরই এখানে দেবী! গাজোলে ৪০০ বছরের পুরোনো ‘পাঁচকালী’র টানে ভক্তের ঢল

Malda | কোনো বিগ্রহ নেই, পাঁচটি পাথরই এখানে দেবী! গাজোলে ৪০০ বছরের পুরোনো ‘পাঁচকালী’র টানে ভক্তের ঢল

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


গৌতম দাস, গাজোল: মালদার (Malda) গাজোল (Gazole) থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রায়গঞ্জের (Raiganj) দিকে প্রায় ছয় কিলোমিটার যাওয়ার পর পথে পড়বে আহোড়া বাসস্ট্যান্ড। এখান থেকে বাঁদিকে গ্রামীণ রাস্তা ধরে কিছুদূর যাওয়ার পর চোখে পড়ল জমজমাট মেলা বসেছে। গ্রামীণ রাস্তা ছেড়ে নদীর চরে যাওয়ার রাস্তা দিয়ে একটু এগিয়েই দেখা গেল মেলা কমিটির অফিসের সামনে চাল-ডালের পাহাড়। সঙ্গে রয়েছে নানা ধরনের প্রচুর শাকসবজি। একপাশে সাধুদের আখড়া। সেখানে ধুনি জ্বলছে। সাধুদের জয় পাঁচকালী, আর বোম ভোলে ধ্বনিতে মুখরিত স্থানটি। রয়েছে বিভিন্ন দেবদেবীর মন্দির। তবে যাকে কেন্দ্র করে এত আয়োজন, সেই পাঁচকালী হিসেবে মাটিতে পোঁতা পাঁচটি পাথর রয়েছে প্রায় খোলা আকাশের নীচে। প্রচুর মানুষ পুজো দিচ্ছেন সেখানে। ফুল, কলা, বাতাসা, দুধ ছাড়াও অনেকে মানত হিসেবে পায়রাও দিচ্ছেন। তবে এখানে বলি হয় না।

মেলা কমিটির সম্পাদক নিত্যগোপাল রায় জানালেন, ৪০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই পাঁচকালীর থান। জনশ্রুতি আছে, ডাকাতরা এই পাঁচটি পাথর এখানে প্রতিষ্ঠা করে কালীপুজো করত। তারপর শ্রীমতি নদী ধরে চলে যেত ডাকাতি করতে। ডাকাতি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে এখানে পুজো দিতেন। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে তান্ত্রিকরা এখানে আসতেন তন্ত্রসাধনা করতে। তখন এই জায়গা ছিল ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ। সাধনা করার পর সাধুরা চলে যেতেন। ২১ বছর আগে জঙ্গল কেটে মেলা কমিটি নতুন করে মায়ের পুজো শুরু করেছে। তবে পাঁচকালীর কোনও বিগ্রহ নেই। যে পাঁচটি পাথর পোঁতা রয়েছে, তাকেই দেবী হিসেবে পুজো করা হয়।

পয়লা মাঘ বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার মানুষ আসবেন এখানে স্নান করতে। বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধুরা ইতিমধ্যে এসে গিয়েছেন। তাঁদের জন্য আলাদা আখড়া করে দেওয়া হয়েছে। পাঁচকালীপুজো (Panchkali Temple Historical past) উপলক্ষ্যে বুধবার থেকেই চলছে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ। দু’দিন মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে খিচুড়ি প্রসাদ খাওয়ানো হবে। গ্রামের মানুষই চাল, ডাল, নিজেদের খেতের সবজি এখানে দিয়ে যাচ্ছেন। তা দিয়েই রান্না হচ্ছে ভোগ। পুজো কমিটির সভাপতি রমণী রায় বলেন, ‘খুব জাগ্রত এই পাঁচকালী। বিভিন্ন পুঁথিপত্রে এই পাঁচকালীর উল্লেখ রয়েছে। পুজোকে কেন্দ্র করে পাঁচদিন ধরে চলবে নানা ধরনের অনুষ্ঠান। মূলত বাউল, লোকসংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা করি আমরা।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *