Bakhtiyar Khilji Tomb Gangarampur | বখতিয়ার খিলজির সমাধি কি ধ্বংসের মুখে? গঙ্গারামপুরে অবহেলায় ধুঁকছে ৮০০ বছরের ইতিহাস

Bakhtiyar Khilji Tomb Gangarampur | বখতিয়ার খিলজির সমাধি কি ধ্বংসের মুখে? গঙ্গারামপুরে অবহেলায় ধুঁকছে ৮০০ বছরের ইতিহাস

শিক্ষা
Spread the love


রাজু হালদার, গঙ্গারামপুর: ইতিহাস পড়ার সময় বখতিয়ার খিলজির নাম কমবেশি সবাই শুনেছে। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, গঙ্গারামপুর (Gangarampur) ব্লকের পিরপাল গ্রামে (Pirpal Village) রয়েছে বখতিয়ার খিলজির সমাধি (Bakhtiyar Khilji Tomb Gangarampur)। তবে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই সমাধি সৌধের প্রাচীরের একাংশ ভেঙে পড়েছে। সমাধি প্রাচীরের সংলগ্ন জায়গা জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে। আশপাশে আবর্জনা পড়ে রয়েছে। অবহেলায় কার্যত সমাধিস্থলটি ধ্বংসের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। এই স্থানটিকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন ইতিহাসপ্রেমীরা।

পিরপাল গ্রামের এই সমাধিস্থলটিকে নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক রয়েছে। কারও মতে, এটি বখতিয়ার খিলজির সমাধিস্থল আবার কারও মতে, সমাধিস্থলটি পির বাহাউদ্দিন নামক এক ধর্ম প্রচারকের। ইতিহাসপ্রেমী গোবিন্দ পালের মতে, ‘পিরপাল গ্রামের বখতিয়ার খিলজির সমাধিটি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কারের অভাবে বর্তমানে ধ্বংসের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছে সমাধি সৌধটি। ইতিমধ্যে সীমানা প্রাচীরের একাংশ ভেঙে গিয়েছে। আগামী বর্ষায় হয়তো সম্পূর্ণ সীমানা প্রাচীর ভেঙে যাবে। সৌধটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’

১২০৫ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খিলজি বঙ্গদেশে এসেছিলেন। তখন দেবকোটে নিজের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে তিব্বত আক্রমণের জন্য রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে তাঁর সৈন্যদের মৃত্যু হলে তিনি ফিরে আসেন। তারপর তাঁর বিশ্বস্ত অনুচর আলি মর্দান তাঁকে দেবকোটে হত্যা করেন।

প্রাচীন এই সমাধিস্থলকে নিয়ে নানারকম বিতর্ক থাকলেও, এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এবিষয়ে ইতিহাসের গবেষক সমিত ঘোষ বলেন, ‘নারায়ণপুর এলাকার পিরপাল গ্রামের সমাধি সৌধটি বখতিয়ার খিলজির নাকি, পির বাহাউদ্দিনের তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। তবে, একথা ঠিক যে জায়গাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। তাই এটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। দ্রুত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করলে প্রাচীর সহ সমাধি সৌধটি ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রশাসনের উচিত পদক্ষেপ করা।’

লোকশিল্পী রাকেশ মণ্ডল জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা এই সমাধিস্থলকে পিরের সমাধিস্থল বলে মনে করেন। প্রতিবছর বৈশাখ মাসে এখানে পুজো হয়। লোকগানের আসর বসে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ পিরের প্রতি সম্মান জানাতে সারাবছর খাট কিংবা তক্তপোশের পরিবর্তে মাটিতে রাত্রিযাপন করেন। বর্তমানে সমাধি সৌধটির অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যাওয়ায় তা রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *