জসিমুদ্দিন আহম্মদ, মালদা: আবহাওয়ার পূর্বাভাস, এবছর উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে রেকর্ড শীতে হাড় কাঁপবে বঙ্গে। নভেম্বরেই প্রকৃতি যেন তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূর্যাস্ত হতেই মানুষের গায়ে উঠতে শুরু করেছে হালকা গরম পোশাক। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে উষ্ণতা নিয়ে হাজির কাশ্মীরি শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীরা। প্রবল ঠান্ডায় কাশ্মীরি ফ্যাশনের জোয়ার আনতে শুধু শাল নয়, মালদায় (Malda) এসেছে কাশ্মীরি কাফতান, কাশ্মীরি পেইজলি টিল্লা, কাশ্মীরি ফেরান, কর্ডশেড, পুঞ্চু, শারাক, কোট সহ একাধিক গরম পোশাক। কাশ্মীরি গরম পোশাকেই যেন সেজে উঠছে মালদা।
ভারতে শীতের আগমনী বার্তা বয়ে নিয়ে আসে সাইবেরিয়ান পাখির দল। তবে মালদা শহরের মানুষের কাছে প্রকৃত অর্থে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে হাজির হন পরিযায়ী শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে শহরের রাস্তায় দেখা যাচ্ছে বাবর, এজাজ, নৌসাদ, রহমত, মিনহাজদের। শীতের মরশুমের সূচনা লগ্নে শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীরা যেন শহরে শীতের কাংড়িতে অগ্নিকুণ্ড নিক্ষেপ করছেন। মালদা শহরের রবীন্দ্র অ্যাভিনিউজুড়ে এখন প্রায় প্রতিটি দোকানের সামনে চরম ব্যস্ততা কাশ্মীরি শালওয়ালাদের। দোকানের মাথায় বড় বড় ব্যানার লাগানোর কাজ চলছে। খোলা হচ্ছে রংবেরংয়ের গরম চাদরের বস্তা। দোকানগুলিকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে শীতবস্ত্রের সম্ভারে। কাশ্মীরি শালে ভরে উঠছে দোকানগুলি। কর্মব্যস্ততার মধ্যেও শহরবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করতেও ভুলছেন না তাঁরা। বাবর খান জানান, প্রতি বছরের মতো এবছরও তাঁরা শীতবস্ত্র নিয়ে মালদা শহরে হাজির হয়েছেন। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কাশ্মীরি ব্যবসায়ী রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার দাদু এই শহরে আসতেন। পরবর্তীতে দাদুর হাত ধরে বাবা আসতেন। আর আমি তো শিশু অবস্থা থেকে মালদা শহরেই রয়েছি। এই শহরের প্রতিটি রাস্তাঘাট আমার নখদর্পণে। বহু মানুষের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছে। মালদা আমার কাছে দ্বিতীয় জন্মভূমি। আমার সন্তানের জন্মও এই শহরে।’ তাঁর বক্তব্য, এবছর রেকর্ড শীত পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই সম্ভাবনায় গরম পোশাকের সংখ্যা প্রত্যেকেই বাড়িয়েছেন। এনেছেন কাশ্মীরি ফ্যাশনের নতুন নতুন পোশাক। মালদা জেলার মানুষের পছন্দ হবে কাশ্মীরি ফ্যাশন, বলছেন ব্যবসায়ীরা।
এজাজ লোন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতি বছরই শীতে এখানে গরম পোশাকের ভালো ব্যবসা হয়। পোশাকের গুণগত মানের জন্য চাহিদাও বাড়ছে। আমাদের প্রতি মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসকে সম্মান জানাই। এবছরও ভালো ব্যবসা করার আশা নিয়েই দোকান খোলার কাজ শুরু করেছি। প্রবল শীতের কথা মাথায় রেখে দ্বিগুণ পোশাক নিয়ে এসেছি।’ কাশ্মীরি পোশাক বিক্রেতা মিনহাজ খান বলছিলেন, ‘গরম পোশাকের কারবার পারিবারিক ব্যবসা। প্রতি বছরই মালদা শহরের রবীন্দ্র অ্যাভিনিউ এলাকায় দোকানঘর ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করি। শীত পড়লে ব্যবসা ভালো হয়। এবছর ঠান্ডা পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই পোশাক অনেক বেশি নিয়ে এসেছি। আশা করছি ভালো ব্যবসা হবে।’ তাহলে কি এবার শীতে এক টুকরো কাশ্মীর হয়ে উঠবে মালদা? হাসছেন এজাজরা।
