মানিকচক: শেষমেষ মালদার (Malda) মানিকচকের (Manikchak) এনায়েতপুর হাইস্কুলের কন্যাশ্রী দুর্নীতিতে মূল অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক তথা মানিকচক ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সুনন্দ মজুমদারকে আটক করল মানিকচক থানার পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে তাকে আটক করে মানিকচক থানার পুলিশ। যদিও পরে উপযুক্ত নথি না থাকায় পিআর বন্ডের মাধ্যমে মানিকচক থানা থেকে ছাড়া পান সুনন্দ।
সুনন্দ মজুমদারের বিরুদ্ধে ৪৬ জন ছাত্রীর কন্যাশ্রীর টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছিল। কন্যাশ্রীর টাকা তছরুপের অভিযোগ তোলেন খোদ এনায়েতপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদিউজ জামান। চলতি বছরের গত জানুয়ারি মাসে সহকারী প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদারের বিরুদ্ধে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ হয়। নিজেদের কন্যাশ্রীর টাকা ফেরত পেতে এবং অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছে দ্বারস্থ হয় কন্যাশ্রী প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছাত্রীরা। জালিয়াতি সহ বেশ কয়েকটি জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযুক্ত সুনন্দর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে মানিকচক থানার পুলিশ। তবে চার মাসের বেশি সময় কেটে গেলেও অভিযুক্ত সুনন্দর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি পুলিশ প্রশাসন। গত সোমবার এনায়েতপুর হাইস্কুলের কন্যাশ্রী বঞ্চিত ছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে। কন্যাশ্রীর টাকা ফেরত পেতে এবং অভিযুক্ত সুনন্দ মজুমদারের গ্রেপ্তারের দাবিতে কন্যাশ্রী বঞ্চিত ছাত্রীদের নিয়ে তিনি স্কুলে ধর্না দেন। অভিযুক্তের গ্রেপ্তারের দাবিতে সুর চড়ান এসএরআইয়ের রাজ্য সম্পাদক। ঘটনার পর থেকে গত চার মাস ধরে স্কুলে অনুপস্থিত থাকলেও গত মঙ্গলবার নিজ কর্মে যোগদান করেন তিনি। আর সেদিন রাতেই তাঁর মানিকচকের বাঙালগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ।
অভিযোগ, এই স্কুলের এক ডাটা এন্ট্রি অস্থায়ী কর্মীর সহযোগে এক গ্রামীণ ব্যাংকের সিএসপির কর্মীর সহায়তায় ৪৬ জন ছাত্রীর কন্যাশ্রীর টাকা লোপাট করেছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক সুনন্দ মজুমদার। এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মালদা সফরের সময় দাবিসনদের প্ল্যাকার্ড হাতে দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করে কন্যাশ্রী প্রকল্প থেকে বঞ্চিত ছাত্রীরা। পরে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়। তবে তদন্তই শেষ। অভিযোগের চার মাস কেটে গেলেও প্রশাসনিক মহলে এই বিষয়ে কোনও হেলদোল দেখা যায় না।
যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে অভিযুক্ত সুনন্দ মজুমদার মালদা জেলা আদালতে পালটা অভিযোগ দায়ের করেন। তঁার দাবি, ‘ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে প্রধান শিক্ষক বাদিউজ জামান আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন।’ সুনন্দর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য চারটি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মূল অভিযুক্ত হলেন সুনন্দ মজুমদার। তবে কীভাবে মানিকচক থানা থেকে পিআর বন্ডের মাধ্যমে সুনন্দ ছাড়া পেতে পারেন তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে এই বিষয়ে অভিযুক্তের আইনজীবী আবদুল আলিমের দাবি, ‘এই মামলায় সুনন্দবাবুকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই মামলায় সুনন্দ মজুমদারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় তাঁকে থানা থেকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে পুলিশ।’
