বৈষ্ণবনগর: সোমবার মালদা জেলার কালিয়াচক-৩ ব্লকের বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার ১৬ মাইল ও ১৮ মাইল টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় পিডব্লিউডি-র জমি দখলমুক্ত করতে বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান চালাল প্রশাসন (Eviction Drive)। বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় দোকান, দুটি পাকা বাড়ি এবং অন্তত ছয়টি বাড়ির একাংশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে (PWD Land)।
সরকারি জমি দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে সোমবার দুপুর থেকে এই অভিযান চালানো হয়। পূর্ত দপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযানে উপস্থিত ছিল বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা। গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
উচ্ছেদের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, পুনর্বাসনের কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিশ্বজিৎ সাহা নামে এক উচ্ছেদ হওয়া দিনমজুর বলেন, “আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা এখানেই। দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চলত। নতুন করে ঘর বাঁধার সামর্থ্য নেই। সরকার উচ্ছেদ করলে আগে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল।”
অপরদিকে, মিষ্টির দোকানদার বাবলু শেখের অভিযোগ, প্রশাসন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার আগেই সোমবার সকালে বুলডোজার নামানো হয়। তিনি বলেন, “দোকান সরানোর সুযোগও পাইনি। ফ্রিজসহ লক্ষাধিক টাকার জিনিসপত্র ধ্বংস হয়েছে। বহু বছরের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসা মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু পরিবার বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করলেও পুনর্বাসন নিয়ে প্রশাসন কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা জানায়নি। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি দখলমুক্ত করার কাজ আইন মেনেই করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান চলবে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বা আর্থিক সহায়তার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি প্রশাসন।
এখন খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো অবিলম্বে পুনর্বাসন ও সরকারি সাহায্যের দাবি জানিয়েছে। প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপের পর এখন ক্ষতিগ্রস্তদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

