সামসী: আবারও বাড়তে শুরু করেছে মহানন্দা নদীর (Mahananda River) জলস্তর। যার ফলে নদীভাঙনের আতঙ্ক গ্রাস করেছে মালদার (Malda) মালতীপুর (Malatipur) বিধানসভার খানপুর গ্রামের বাসিন্দাদের। বাড়ির উঠোন ও গলিতে ফাটল ধরায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারগুলির। নদীর সঙ্গে বসতবাড়ির দূরত্ব এখন টেনেটুনে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মিটার। ইতিমধ্যেই একাধিক বাড়ির উঠোনে ধস নেমেছে। ফলে যে কোনও মুহূর্তে বাড়িঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কায় প্রহর গুনছেন অন্তত ১০টি পরিবার।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লিলুফা বিবির বাড়ি। তাঁর বাড়ির উঠোনের একেবারে ধারে বড়সড় ধস নেমেছে। আতঙ্কিত লিলুফা বিবি বলেন, “প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনও সময় আমাদের বাড়িটা নদীতে তলিয়ে যাবে। স্বামী মজিবুর রহমান এবং দুই নাবালক মেয়েকে নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে। বড় মেয়েটি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। কোথায় যাব, কী করব, কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।”
একই অবস্থা জালালুদ্দিনের বাড়ির পাশেও। বাড়ির পাশের গলিতে ধস নেমে যাওয়ায় আতঙ্কে পরিবার। তিনি বলেন, “প্রতিদিন ধস একটু একটু করে বাড়ছে। রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। কখন যে বাড়িটা নদীতে ভেঙে পড়বে, সেই ভয়েই দিন কাটছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই আবেদন, দ্রুত ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক।”
এছাড়াও রিন্টু আলি, মহম্মদ নৈমুদ্দিন, জামিরুদ্দিন, কামালুদ্দিন, আকবর আলি-সহ আরও কয়েকটি পরিবারের বাড়িও নদীভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নদীর জল বাড়তে থাকায় গোটা এলাকায় চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সেচ দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি বলেন, “খানপুরে নদীভাঙনের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসন ও সেচ দপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করার জন্য আমি জোর দাবি জানিয়েছি। মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।”

