উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ঠোঁটের ভেতরের দিকে বারবার ছোট-বড় ফুসকুড়ি বা ঘা হওয়া অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও অস্বস্তিকর (Mouth Ulcer)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাপথাস আলসার’ বা ‘মাউথ আলসার’। অনেকেরই এই সমস্যা বারবার ফিরে আসে। কেবল মলম লাগিয়ে সাময়িকভাবে উপশম মিললেও, এর মূল কারণ শনাক্ত করা জরুরি।
কেন বারবার ঘা হয়?
মুখের ভেতরের এই ক্ষত কেবল বাইরের সংক্রমণের কারণে হয় না, বরং এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে শরীরের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা:
পেটের সমস্যা: নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস বা লিভারের জটিলতা মুখে ঘা হওয়ার অন্যতম কারণ।
পুষ্টির অভাব: শরীরে ভিটামিন বি১২, ফলিক অ্যাসিড, আয়রন বা জিঙ্কের ঘাটতি থাকলে ঘা হওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
আঘাত: দাঁতের কামড় বা ধারালো দাঁতের নিয়মিত ঘষায় ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে।
রাসায়নিকের প্রভাব: টুথপেস্টে থাকা ‘সোডিয়াম লরিল সালফেট’ অনেকের মুখের নরম ত্বকে অ্যালার্জি বা ঘা তৈরি করে।
ঘরোয়া উপশম প্রাথমিক পর্যায়ে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি বেশ কার্যকর:
১. নুন-জলের কুলকুচি: হালকা গরম জলে সামান্য নুন মিশিয়ে দিনে ৩-৪ বার কুলকুচি করলে ব্যাকটেরিয়া দূর হয় ও ঘা দ্রুত শুকায়।
২. নারকেল তেল: প্রদাহ কমাতে খাঁটি নারকেল তেল আঙুলে নিয়ে আলতো করে ক্ষতের জায়গায় লাগান।
৩. মধু ও হলুদ: মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান জ্বালা কমায়। মধুর সাথে সামান্য কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ক্ষতের ওপর লাগাতে পারেন।
৪. বরফ: তীব্র ব্যথা বা জ্বালা হলে বরফের টুকরো পরিষ্কার কাপড়ে পেঁচিয়ে ক্ষতের ওপর ধরলে আরাম মিলবে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ঘরোয়া উপায়ে ৩-৪ দিনের মধ্যে উপশম না হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বিশেষ করে—
- ঘা যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়।
- তীব্র ব্যথার কারণে খাবার গিলতে সমস্যা হলে।
- ঘায়ের সঙ্গে উচ্চমাত্রার জ্বর থাকলে।
বারবার এই সমস্যা হওয়া পুষ্টির অভাব বা অন্য কোনও শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই অযথা দেরি না করে জেনারেল ফিজিশিয়ান বা ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা ও ভিটামিন প্রোফাইল করিয়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।

