সামসী: মৃত্যুর ২০ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে তোলা হল এক নাবালিকা গৃহবধূর দেহ। ময়নাতদন্তের পর তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মূল অভিযুক্ত দাদা-শ্বশুরকে। শুক্রবার চাঁচল (Chanchal) মহকুমা আদালতে ধৃতের জামিনের আবেদন খারিজ হতেই এই নৃশংস ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদার (Malda) রতুয়া (Ratua) থানা এলাকায়। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে অসহায় মা দাবি তুলেছেন, “আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে, আমি অভিযুক্তের ফাঁসি চাই।”
জানা গেছে, গত ১৮ জুন রতুয়া থানার একটি গ্রামে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় ওই নাবালিকার। প্রায় ছয় মাস আগে এক তরুণ তাকে বিয়ে করে নিয়ে আসে। মৃতার মায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে মেয়ের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। শুধু তাই নয়, শাশুড়ির বাবা তথা নাবালিকার দাদা-শ্বশুর ইসরাফিল সবজি দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব ও জোরপূর্বক যৌন হেনস্থা করত।
মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে গলায় কালশিটে দাগ দেখতে পান মা। কিন্তু অভিযোগ, মৃত্যুর আসল কারণ আড়াল করতে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তড়িঘড়ি দেহ কবরস্থ করে দেয়। পরবর্তীতে সমস্ত হুমকি উপেক্ষা করে রতুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নাবালিকার মা।
অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নামে রতুয়া থানার পুলিশ। আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে কবর থেকে দেহ তুলে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃতার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্নের উল্লেখ রয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পুলিশ মূল অভিযুক্ত ইসরাফিল সবজিকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার ধৃতকে চাঁচল মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে, বিচারক তার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন। এদিন আদালতে পৌঁছনোর জন্য ভিক্ষা করে গাড়ির ভাড়া জোগাড় করতে হয়েছে মৃতার অসহায় মাকে। সরকারি আইনজীবীদের দাবি, জেলা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং দোষীদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

