অভিষেক ঘোষ, মালবাজার: এখনও ফাইলে বন্দি মালবাজারের হড়পার ঘটনা (Malbazar)। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা চাকরি পেলেও ঘটনার তদন্ত হয়নি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন শহরের নাগরিকরা। এ ব্যাপারে মালের বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বলেন, ‘নিহতদের পরিবারের দাবিকে সম্মতি জানাই। বিষয়টি অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হবে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি অবশ্যই যৌক্তিক।’
২০২২ সালে দুর্গাপুজোর দশমীর দিন হড়পায় মালবাজার শহরের আটজনের মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তৃণমূল সরকার। ঘটনার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নিহতদের বাড়ি গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছিলেন। তারপর মালবাজারে একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের একজন করে সদস্যকে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মাল বিডিও অফিসে যোগদান করেছেন। কেউ বা থানায় হোমগার্ড পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন।
হড়পার ঘটনার পর প্রতিটি পরিবারের দাবি ছিল, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত সাজার ব্যবস্থা করার। তবে তৃণমূলের আমলে কোনও তদন্ত করেনি প্রশাসন। অভিযোগ, সে সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহার নির্দেশেই হয়নি তদন্ত। নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক এবং নিয়োগপত্র দিয়ে চেপে রাখা হয়েছিল ঘটনাটি। চাকরি পেলেও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মনে এখনও চাপা ক্ষোভ থেকে গিয়েছে।
এমনই ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এক পরিবারের সদস্যের কথায়, ‘সরকারি চাকরিটা যথেষ্ট নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘুরে যাওয়ার পর স্থানীয় কোনও তৃণমূল নেতা একটা দিনও খোঁজ নিতে আসেননি। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সামনে যখন তদন্তের দাবি করেছিলাম, তখন আমাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূল নেতারা।’ অপর এক নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হড়পার ঘটনাকে শুধুমাত্র দুর্ঘটনা বলে চালানো হয়েছিল। তবে, এই ঘটনার পেছনে মাল পুরসভার গাফিলতি তখন প্রশাসনের নজরে আসেনি। যদিও তৃণমূলের এক কাউন্সিলার জানান, হড়পার ঘটনা তৎকালীন চেয়ারম্যানের গাফিলতির প্রমাণ। সেই ঘটনার জন্য তিনিই দায়ী।
হড়পার ঘটনায় নিজের পরিবারের দুজন সদস্যকে হারিয়েছেন ক্যালটেক্স মোড়ের প্রদীপ পণ্ডিত। প্রদীপের কথায়, ‘এখন সেই মামলার তদন্ত করুক পুলিশ ও রাজ্য সরকার। আমাদের আশা নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিচারের ব্যবস্থা করবেন।’
