মালবাজার: বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে স্বপন সাহাকে দল থেকে ছেঁটে ফেলার পর জল্পনা শুরু হয়েছে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের টাউন সভাপতি অমিত দে-কে নিয়ে। দল সূত্রে খবর, অমিত বরাবরই স্বপন-ঘনিষ্ঠ থাকায় এবার কোপ পড়তে পারে তাঁর ওপর। তবে টাউন সভাপতি পদ থেকে অমিতকে সরানো হলে তারপর সেই পদে কে বসবেন, সেটা নিয়ে জোর চর্চা চলছে শহরে (Malbazar)।
চর্চায় প্রথমেই আছেন তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের টাউন কমিটির সম্পাদক নেহা দাস। জন্মসূত্রে মালবাজার বাসিন্দা হলেও বিবাহ সূত্রে নেহা দিল্লিতে ছিলেন বহু বছর। বর্তমানে তিনি মালবাজার পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। গত তিন বছর ধরে সেখানেই পাকাপাকিভাবে থাকছেন তিনি। নিজের সমাজসেবী ইমেজ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত থাকলেও বিতর্ক কম হয়নি নেহাকে নিয়ে। এক সময়ে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মালবাজার শহরে মিছিল হয়েছিল।
নেহা শহরে আসার পর থেকে বরাবরই প্রাক্তন চেয়ারম্যান স্বপন সাহার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে, মাল পুরসভায় পটপরিবর্তনের পর নতুন চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়িকে সংবর্ধনা জানাতে পুরসভায় গিয়েছিলেন তিনি। দলেরই একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে কলকাতায় গিয়ে তৃণমূলের এক শীর্ষনেতার সঙ্গে দেখা করেছেন নেহা। তারপর থেকেই টাউন সভাপতি পদে তাঁর নাম নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
যদিও তাঁর বিরোধীদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা তৃণমূল যুবর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অজয় লোহার বলেন, ‘অনভিজ্ঞ কাউকে এত বড় দায়িত্ব দিলে, আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবি হতে পারে। দলের উচিত অভিজ্ঞ কাউকে টাউন সভাপতির পদে মনোনীত করা।’
নেহা নিজে অবশ্য বলছেন, ‘জনগণের স্বার্থে কাজ করতে চাই। দল যদি আমাকে দায়িত্ব দেয় তবে অবশ্যই সেই দায়িত্ব পালন করব।’
টাউন সভাপতি পদে মালবাজার শহরের তৃণমূল নেতা শুভঙ্কর দে-কে নিয়েও জল্পনা চলছে। দৌড়ে আছেন পুরসভার দুই কাউন্সিলার মিলন ছেত্রী ও অজয় লোহারও। তৃণমূলের একটি অংশ আবার ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা অমিতকেই পরবর্তী টাউন সভাপতি রাখার পক্ষপাতী।
নবীনদের পাশাপাশি প্রবীণ নেতা মানসকান্তি সরকারের নাম শোনা যাচ্ছে টাউন সভাপতির দৌড়ে। মানস ২০০৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত টাউন কমিটির সভাপতি পদে ছিলেন। বাম আমলে বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরোনো তৃণমূলিরা তাঁকে শহরে দলের সেনাপতি হিসেবে চাইছেন।
তৃণমূলের টাউন সভাপতি অমিত দে বলেন, ‘দল যাঁকেই দায়িত্ব দেবে আমরা তাঁকেই সহযোগিতা করব।’ মানস বলেন, ‘দল যদি আবার দায়িত্ব দেয় তাহলে নবীন ও প্রবীণের ভারসাম্য রেখে কাজ করব।’ পুরসভার চেয়ারম্যান উৎপল ভাদুড়ি বলেন, ‘সংগঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে সেটা দল বিবেচনা করবে।’
