উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচের (FIFA World Cup 2026) শেষ মুহূর্তগুলোকে যেন নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi) এবং আর্জেন্টিনা (Argentina)। বুধবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে করা দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন এই দীর্ঘ তালিকায় আরও একটি নতুন পালক যুক্ত করল। ম্যাচের শেষ দিকে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই নাটকীয় জয়ের পর আগামী রবিবারের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আলবিসেলেস্তেরা।
নকআউট পর্বে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর নজির এটিই প্রথম নয়। এর আগে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও তারা ম্যাচ জিতেছিল। এবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও একই বীরত্ব দেখাল আর্জেন্টিনা।
চলতি বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘোরানোর খতিয়ান নিচে তুলে ধরা হলো:
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে (আর্জেন্টিনা ২, অস্ট্রিয়া ০)
গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে জয় নিয়ে খুব একটা সংশয় ছিল না। ইনজুরি টাইমে আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এমন সময় লিওনেল মেসি নিজের একটি রিবাউন্ড বল ধরে তিন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বুলেট গতির শটে গোল করেন এবং দলের জয় নিশ্চিত করেন।
জর্ডানের বিরুদ্ধে (আর্জেন্টিনা ৩, জর্ডান ১)
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। ম্যাচের শেষ দিকে বিকল্প (Sub) হিসেবে মাঠে নামা লিওনেল মেসি ২৫ গজ দূর থেকে একটি ফ্রি-কিক পান। জর্ডানের ডিফেন্ডারদের তৈরি ওয়ালের ফাঁক গলে মাটি ঘেঁষা শটে বল জালে জড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে (আর্জেন্টিনা ৩, কেপ ভার্দে ২)
নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচটি ছিল চরম নাটকীয়। রূপকথার মতো খেলতে থাকা কেপ ভার্দেকে হারাতে আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত সময়ে দুটি গোলের প্রয়োজন হয়েছিল। ৯২ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপর ১১১ মিনিটে মেসির নেওয়া একটি নিখুঁত কর্নার কিক আত্মঘাতী গোলে রূপ নিলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
মিশরের বিরুদ্ধে (আর্জেন্টিনা ৩, মিশর ২)
শেষ ষোলোর ম্যাচে চ্যাম্পিয়নদের বিদায় প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল। ম্যাচের শেষ ১১ মিনিট বাকি থাকা পর্যন্ত মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এরপরই দেখা যায় টুর্নামেন্টের সেরা প্রত্যাবর্তন। ৭৯ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো প্রথম গোল করেন, চার মিনিট পর মেসি সমতা ফেরান এবং ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ জয়সূচক গোলটি করেন।
সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ( আর্জেন্টিনা ৩, সুইজারল্যান্ড ১)
১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে টেনে নিয়ে যায়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ১১২ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন এবং ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে (আর্জেন্টিনা ২, ইংল্যান্ড ১)
সেমিফাইনালে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ৮৫ মিনিটে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ এবং ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেন লাউতারো মার্টিনেজ। এই দুটি গোলের পেছনেই ভূমিকা ছিল অধিনায়ক লিওনেল মেসির। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে আর্জেন্টিনা।
পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বিশ্বকাপে ম্যাচের ৭৯ মিনিট বা তারপরে আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্যভাবে মোট ১১টি গোল করেছে, যা তাদের শেষ মুহূর্তের অপরাজেয় মানসিকতারই প্রমাণ দেয়।

