অভিষেক ঘোষ, মালবাজার: শুক্রবার ভোররাতে এক মহিলা প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হন মাল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে (Mal Tremendous Speciality)। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেই মহিলাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন ছিল অন্তত দু’ইউনিট রক্ত। কিন্তু সেই রোগীর পরিবারের কেউ জানেন না রোগীর রক্তের গ্রুপ কী। সময় নষ্ট না করে হাসপাতালের ল্যাবে পাঠানো হয় মহিলার রক্ত। তখন জানা যায় তঁার ‘ও’ নেগেটিভ রক্ত। তখন মাত্র এক ইউনিট রক্ত ছিল ব্লাড ব্যাংকে। সেটাই দেওয়া হয় মহিলাকে। আরও এক ইউনিট রক্তের খোঁজ করা হয় অন্যান্য ব্লাড ব্যাংকে। কিন্তু পাওয়া যায়নি। রক্তাদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হলেও জোগাড় হয়নি রক্ত। তবে হাল ছাড়েননি চিকিৎসকরা। যদিও শেষমেশ বঁাচানো যায়নি ওই মহিলা বা তঁার সন্তানকে।
শুধু এই একটি ঘটনা নয়, মাল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে রক্তশূন্যতার জন্য এরকম ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। এজন্য জনসচেতনতার অভাবকেই দুষছেন অনেকে। তবে ওই ঘটনায় এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওই মহিলার গর্ভের সন্তান আগেই নষ্ট হয়েছে। তঁার চার বছরের একটি সন্তান রয়েছে। সেই সন্তান হওয়ার সময় যেসব রিপোর্ট করা হয়েছিল সেগুলো যদি তাঁর পরিজন নিয়ে আসতেন তাহলে সুবিধা হত। রক্তের গ্রুপ না জানাতেই অবস্থা আরও জটিল হয় বলে তঁার দাবি।
শুধু ওই মহিলার ঘটনাই নয়, মালবাজারে মাঝেমধ্যেই পথ দুর্ঘটনাও ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলেও অনেক সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য তঁাদের পাঠাতে হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। রেফারের সময় প্রয়োজন হয় পর্যাপ্ত রক্ত। রোগীর পরিবারের সদস্যরা সচেতন হলে সেই রক্ত সহজেই পাওয়া যায়, তবে অসচেতনদের ক্ষেত্রে সেটাই হয়ে ওঠে বড় চ্যালেঞ্জ। তখন রক্তের জন্য ছুটতে হয় বিভিন্ন ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অনিন্দিতা রােয়র কথায়, ‘রাতে রক্তের প্রয়োজন হলে সেটা জোগাড় করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তারপর অধিকাংশ সময় ব্লাড ব্যাংকে রক্ত থাকে না।’
এই মুহূর্তে মাল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে পিআরবিসি ‘এ’ পজিটিভ, ‘এ’ নেগেটিভ, ‘বি’ পজিটিভ, ‘ও’ পজিটিভ, ‘এবি’ পজিটিভ রক্ত আছে মাত্র এক ইউনিট করে। নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত প্রায় শূন্য। এফএফপি নেই এক ইউনিটও। প্লেটলেট পজিটিভ গ্রুপগুলোর আছে মাত্র এক ইউনিট করে। অথচ আগামী এক মাসে নেই কোনও রক্তদান শিবির। কিন্তু দিন-দিন বাড়ছে রক্তের চাহিদা। মাল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার ডাঃ সৌররঞ্জন বসুর কথায়, ‘চিকিৎসকের পাশাপাশি একজন রোগীর প্রাণ বাঁচানোর দায়িত্ব সকলের। সেজন্যই রক্তদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তদানে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।’
মাল সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক সূত্রে খবর, স্থানীয় ব্লাড ব্যাংক থাকতেও অনেক সময় বাইরে থেকে এসে রক্ত সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। পরে রক্তের ঘাটতি হলে সেই রক্ত আনতে যেতে হয় বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকে। এদিকে, ব্লাড ব্যাংকের ইনচার্জ ডাঃ বিশ্বনাথ টুডুর মতে, মাল মহকুমায় যত ক্লাব, সংগঠন আছে সবাই প্রতি মাসে একটি শিবির করলে রক্তের ঘাটতি অনেকটা লাঘব হবে।
রক্তদান করলে যে কত রকমের রোগব্যাধি ঠিক হয় সেটা নিয়ে সরকারিভাবে প্রচার প্রয়োজন বলে মনে করেন তেশিমলা সমাজসেবী সংস্থার মহম্মদ মানিক। তবে সচেতনতা প্রচার নিয়ে ভাবতে হবে প্রশাসনকে।
